
মো. তৌফিকুর ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি আমতলী বরগুনা
তরমুজ একটি সুস্বাদু অর্থকরী ফসল। গরমের সময় এটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ণা নিবারক। আমাদের দেশে যে সব উন্নত মানের তরমুজ পাওয়া যায় তা বিদেশ থেকে আমদানীকৃত শংকর জাতের বীজ থেকে চাষ করা হয়। শুষ্ক, উষ্ণ ও প্রচুর আলোযুক্ত স্থানে তরমুজ ভালো হয়। অধিক আর্দ্রতা তরমুজের জন্য ক্ষতিকর। তরমুজের খরা ও উষ্ণ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা খুব বেশি। উর্বর দোঁ-আশ ও বেলে দোঁ-আশ মাটিই তরমুজ চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।
জাত ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে তরমুজ পাকে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর থেকে ৮০-১১০ দিন সময় লাগে। তাই অর্থকারী ফসল তরমুজ চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে বরগুনার আমতলী উপজেলার চাষীরা। তরমুজ একটি সুস্বাদু ফল, গরম যত বেশি তরমুজের চাহিদাও তত বেশি। আমতলীর তরমুজের সুনাম রয়েছে সারাদেশে। তরমুজ আবাদ করে এবার কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে। তরমুজ চাষিরা বলছেন, ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে আমতলী উপজেলায় ৫ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। তবে ফলন উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৩০ মেট্রিকটন ফল উৎপাদন হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, কোনো প্রতিকূলতা না থাকলে ১৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তারা। দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজ উৎপাদনে অন্যতম এলাকা হিসেবে পরিচিত আমতলী । তরমুজের বাড়িখ্যাত বরগুনার আমতলী উপজেলার মাটি তরমুজ চাষের উপযোগী। তাই এখানকার তরমুজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে। চাহিদার পাশাপাশি লাভজনক ফল হওয়ায় নতুন নতুন চাষিও বাড়ছে এখানে।
আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের চাষী আলম মিয়া বলেন, সে ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন । আর কয়েক দিন পর তার তরমুজ বিক্রি করতে পারবে। প্রাকৃতিক কোন দুয়োর্গ না হলে এবার তার লাভ খরচ বাদে ৬/৭ লাখ টাকা।
চাওড়ার পাতাকাটা গ্রামের তরমুজ চাষী আয়নাল বলেন, তিনি ৩ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন ভরচ বাদে তার ২ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।
গুলিশাখালী গ্রামের তরমুজ চাষী মাহিন মিয়া জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন খরচ বাদে তার ৭ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। এবছর চাষীরা নতুন নতুন জমিতে তরমুজ আবাদ করায় ভালো ফলনও পেয়েছেন তারা। উপজেলার হলদিয়া,আড়পাঙ্গাশিয়া, কুকুয়া, চাওড়া, আঠারগাছিয়া, গুলিশাখালীর বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে তরমুজের সমারোহ। লতায় মোড়ানো সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে তরমুজ। যতদূর চোখ যায় শুধু তরমুজ আর তরমুজ। এই তরমুজ নিয়েই এখন চাষিদের স্বপ্ন আর ব্যস্ততা। কেহ পরিচর্যায় ব্যস্ত। কেউ ব্যস্ত পাকা ফল কাটায়। কেউ আবার পরিবহনে করে বাজারজাতে ব্যস্ত। এ বছর যারা নতুন নতুন জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই লাভবান হয়েছেন- বলছেন তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ইতামধ্যে ৫০ ভাগ ক্ষেতের তরমুজ বাজারজাত করা হয়েছে। বৃষ্টিবর্ষা কোনো প্রতিকূলতা না থাকলে ১৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।