
মোঃ শামীম খন্দকার,কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে কুমারখালী উপজেলার অবস্থান। নদীটি উপজেলাকে দুই ভাগে ভাগ করে রেখেছে। ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন নদীর দক্ষিণ অঞ্চলে, যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর, বাগুলাট ও চাপড়া, ইউনিয়নের লাখো মানুষের বসবাস। এই পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ট্রলার ও নৌকা। ঝড়বৃষ্টি হলে পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো সাধারণ মানুষকে। স্কুল- কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ছিল একই সমস্যা।
স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫২ বছর পর কুষ্টিয়ার কুমারখালী বাসীর বহুল প্রত্যাশিত গড়াই নদীর উপর নির্মিত যার প্রস্তাবিত নামকরণ করা হয়েছে, “শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু” উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর ওপর সেতুর চুক্তি মূল্য প্রায় ৮৯ কোটি ৯১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯১ টাকা। ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতু ও প্রায় ৫৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজটি শেষে হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল সেতুর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানদ্বয়। আজ ২৮-০৬-২৩ ইং (বুধবার) সকাল ১০:০০ ঘটিকাই সেতুটি উদ্বোধন করে। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসার) মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার জনাব ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ (এমপি) অনানুষ্ঠানিক ভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সম্পূর্ণ টোল ফ্রি সেতু। সেতুটি উম্মুক্ত করে দেয়ায় নদীর দু’পারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভুত উন্নতিসহ গড়াই নদী বিভক্ত উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট-দুর্ভোগ লাঘব হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি হবে অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে কৃষকেরা। পাশাপাশি এ উপজেলার সঙ্গে ঝিনাইদহ ,যশোর ও মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও রাজধানী ঢাকার সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এছাড়া আশে পাশের জেলার যোগাযোগ সহজ হবে এবং দূরত্ব কমে আসবে বলে জানা যায়।
এছাড়াও প্রসার ঘটবে বিভক্ত হয়ে থাকা পাঁচ ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা সহ ব্যবসা বানিজ্যের। রোদ বৃষ্টি মাথায় করে ঘন্টার পর ঘন্টা আর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না নৌকার জন্য। অন্তঃসত্তা বা জরুরি রোগী চর পাড়ি দিয়ে কষ্ট করে হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে না । ব্যবসায়িক পণ্য মাথায় করে শহরে আনা নেওয়া কষ্টটা এখন লাঘব হবে সেতুর সুফলে।





