
মমনিরুজ্জামান মিল্টন,যশোর জেলা প্রতিনিধি
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বিতাড়িত শিউলি বেগমের সামনে শত বাঁধা বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও থেমে থাকেনি জীবন সংগ্রাম। সব বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে চলেছেন তিন সন্তানের জননী শিউলি বেগম।
শিউলি বেগমের (৪৮) গ্রামের বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলশিয়া গ্রামে। সেখান থেকে প্রতিদিন ভ্যানে করে সবজী বিক্রি করেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম। কাক ডাকা ভোরে উঠে ছুটে চলেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ক্রেতার খোঁজে। এক যুগ আগে শিউলি বেগম কে তার স্বামী তাড়িয়ে দেন তখন তিনি তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে এসে ঠায় নেন। তার পর থেকেই শুরু হয় সন্তান দের মুখে দু মুঠো খাবার জোগাড় করার সংগ্রাম। শিউলি বেগম জানান দিন শেষে কোনো দিন ১৫০ টাকা কোনো দিন ৩০০ টাকা আয় হয় তার। এই টাকা ইনকাম করতে তাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজে ভ্যান চালিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটতে হয়।
তিন সন্তানের মধ্যে ছেলে রেজোয়ান (১৫) থাকে তার সাথে, সে পড়ে,বাঘা বাড়ি মাদ্রাসায়, অন্য দুই মেয়ে খাদিজাতুল কোবরা (১৬) ও চাদনী (১৭) পড়ে গুয়াখোলা গ্রামে আমেনা কউমি মাদ্রাসায়। সেখানকার ছাত্রা বাসে থাকে তারা। শিউলি বেগমের স্বামী শরিফুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করেই তাকে যখন তাড়িয়ে দেয় তখন সন্তানদের সাথে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বিচারের আশায়, কিন্তু বিচার তার কপালে জোটেনি। দীর্ঘ ১২ বছর সন্তানদের নতুন জামা কিনে দিতে পারেননি শিউলি বেগম। নিজের জন্য তো ভাবেননি কখনো। লোকের দেওয়া পুরনো জামা কাপড় দিয়ে সন্তানদের পোশাকের ঘাটতি মেটান। তিনি বলেন সবজী বিক্রি করতে গেলে অনেকে সন্তান্দের কথা শুনে পুরনো জামা কাপড় দেন। ফলে জামা কাপড়ের জন্য গ্রাম বাসীর উপর নির্ভর করতে হয়।
শিউলি বেগম জানান, সরকার গরীব মানুষের জন্য কত সাহায্য দেয় আমি কিছুই পাইনা। এ বিষয়ে চলশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান জানান সন্তানদের পড়া শোনার খরচ চালাতে ও পরিবারের খরচ চালাতে শিউলি বেগম কে ভ্যানে সবজী বিক্রি করতে হয়। তার খুব কষ্টের জীবন। তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে ও পরিষদের পক্ষ থেকে শিউলি বেগম কে সহায়তার আশ্বাস দেন।





