
বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডের ‘রহস্য’ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে। রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেট আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে গত মঙ্গলবার। এ আগুনে পুড়েছে এই মার্কেটের ৫ হাজার দোকান এবং আশপাশের মার্কেটের কয়েকশ দোকান। শুধু দোকান নয়, পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে এসব দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের স্বপ্ন। এখনো জানা যায়নি এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ। ঈদের আগে সংঘটিত এ অগ্নিকাণ্ডকে অনেকেই ‘রহস্যজনক’ মনে করছেন। আগুন লাগার কারণ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রশ্ন হলো, এই তদন্তে কি বেরিয়ে আসবে প্রকৃত কারণ? এ ধরনের আগের ঘটনাগুলোয় আমাদের যে অভিজ্ঞতা, তা ইতিবাচক নয়। অনেক তদন্তের রিপোর্ট আলোর মুখই দেখেনি। দেখলেও রিপোর্টে প্রদত্ত সুপারিশ নেওয়া হয়নি আমলে। ফলে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটে চলেছে।
তবে বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন জরুরি বলে মনে করি আমরা। এ ঘটনাকে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। এটিকে ‘নাশকতা’ বা ‘পরিকল্পিত’ বলে মনে করছেন তারা। এর পেছনে তাদের যুক্তি হলো, বঙ্গবাজার ঘিরে রয়েছে নানামুখী স্বার্থ : এক. এ জমিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বহুতল মার্কেট নির্মাণ করতে চায়। দুই. দুটি সংস্থা তাদের নামে পুরো জায়গাটি বরাদ্দ পেতে অনেকদিন ধরেই তৎপর। তিন. ব্যবসায়ী নেতারা চান মার্কেটটি যেভাবে নিজেদের কব্জায় আছে, সেভাবেই থাকুক। বঙ্গবাজার এই বহুমুখী দ্বন্দ্বের শিকার কিনা, সে বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি বলে মনে করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এটি তাদের দাবিও বটে। তাদের এ দাবি অযৌক্তিক নয়। বঙ্গবাজার এ নিয়ে তৃতীয়বার আগুনে পুড়ল। প্রতিবারই ধ্বংস হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। প্রতিবারই আগুনের কারণ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কিন্তু উন্মোচিত হয়নি রহস্য। তাই এবারের অগ্নিকাণ্ডের তদন্তকাজ কিছু বিষয় মাথায় রেখে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। যেমন, বহুতল ভবন নির্মাণে কারা লাভবান হবেন, জায়গাটির বরাদ্দ পেতে কারা দীর্ঘদিন ধরে তৎপর-এসব খতিয়ে দেখা দরকার। জানা যায়, ডিএসসিসি বঙ্গবাজারকে ২০১৯ সালেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করেছিল।
এ ব্যাপারে বারবার নোটিশ দিয়েছিল। তারপরও ব্যবসায়ীরা চালিয়ে আসছিলেন ব্যবসা। এক্ষেত্রে হাজার হাজার ব্যবসায়ীকে ঝুঁকির মুখে রেখে কারা বহুতল ভবন নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে ফায়দা নিচ্ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, দেশে বঙ্গবাজার ট্র্যাজেডির মতো আর কোনো ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য এ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। এটি যদি ‘স্বাভাবিক’ বা দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড হয়ে থাকে, সেটি উদ্ঘাটন করা যেমন জরুরি; আবার ‘নাশকতা’ হয়ে থাকলে তা উদ্ঘাটন করাও জরুরি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা গেলে প্রতিকারের পথটিও বেরিয়ে আসবে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)