
কুড়িগ্রামে ভূরুঙ্গামারীতে ফিল্মী স্টাইলে ১৫ লক্ষ (পনের লক্ষ) টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে গত ১৯ মার্চের ২০২৩ইং ঘটনার পরে বিকাশ কতৃপক্ষ ৯৯৯ এ কল করে টাকা ছিনতাই বিষয়টি অবগত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ অভিযান চালায়। ওই দিনই ৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার সহ দুই জনকে আটক করে। বাকি ৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সহ ছিনতাই কারীর মুল হোতা কৌশলে পালিয়ে যায়। বিষয়টি পুলিশ বিশেষ নজরদারিতে রাখে। আজ ২৬ এপ্রিল অবশিষ্ট ৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা সহ ছিনতাই কারীর মুল হোতাকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
পুলিশ ও অভিযোগ কারীদের সূত্রে যানাযায় গত ১৯ মার্চ বেলা আনুমানিক ১১ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের বিকাশ কর্মী শ্রী শুভ কুমার রায় (২৬), পিতা-শ্রী বিশ্বাস চন্দ্র রায় ১৫ লক্ষ (পনের লক্ষ) টাকা নিয়ে বিকাশ এজেন্টদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল যোগে ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট স্থল বন্দর এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, বেলা আনুমানিক ১২ টার দিকে উক্ত বিকাশ কর্মী ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট যাওয়ার পথে অত্র থানাধীন দক্ষিণ ভরতেরছড়া (ঘুন্টিঘর) নামক স্থানে পেছন থেকে আসামী শ্রী প্রসেনজিত বর্মণ (২৭), পিতা-মৃত শশিমোহন বর্মন, শান্তিটারী দিঘীরপাড় ৯নং ওয়ার্ড, খাদিমুল ইসলাম (লাল) (২৭), পিতা- আজিজুল হক,বোয়ালের ডারা ওয়ার্ড নং (০৩) উভয় থানা-নাগেশ্বরী,মোস্তফা (৩০), পিতা হানিফ মন্ডল, গনাইরকুটি, ভূরুঙ্গামারীগণ তাদের ব্যবহৃত চলন্ত মোটরসাইকেল দ্বারা ইচ্ছাকৃত ভাবে বিকাশ কর্মীর মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ধাক্কা মারে। বিকাশকর্মী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার সঙ্গে থাকা টিএমও শ্রী বিদ্যুৎ চন্দ্র সহ পাঁকা রাস্তার উপড় পড়ে যায়। সেই সুযোগে মোটরসাইকেলে থাকা আসামীগণ বিকাশকর্মী কাছে থাকা ১৫ লক্ষ (পনের লক্ষ) টাকা রক্ষিত একটি ব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে সোনাহাটের দিকে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার পরপরই কচাকাটা ও ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ কর্তৃক উল্লেখিত প্রথম ও দ্বিতীয় আসামীকে কচাকাটা থানাধীন ছনবান্দা খলিশাবাড়ি গ্রামস্থ ১, ২ ও ৩নং আসামীকে পলায়নের সহায়তাকারী এজাহার নামীয় ৪নং আসামী মোন্নাফ আলী (২৫), পিতা খলিলুর রহমান এর বাড়ির সামনে থেকে দস্যুতালব্ধ ১৫ লক্ষ (পনের লক্ষ) টাকার মধ্যে ৭ লক্ষ ৬০ হাজার (সাত লক্ষ ষাট হাজার) টাকা সম্বলিত একটি কালো রংয়ের হাত ব্যাগ ও দুস্যতার ঘটনায় ব্যবহৃত কালো সবুজ রংয়ের বাজাজ পালসার (১৫০ সিসি) মোটরসাইকেল যার রেজিঃ নম্বর কুড়িগ্রাম-ল-১১-৩৫০৪ উদ্ধার সহ গ্রেফতার করেন। এবং পলায়নে সহায়তাকারী আসামী মোন্নাফ আলী (২৫) কেও গ্রেফতার করা হয়। বর্ণিত ঘটনায় ভূরঙ্গামারী থানার মামলা নং-২১, তারিখ-২০ মার্চ ২০২৩, ধারাঃ ৩৯৪/৩৪/১০৯ পেনাল কোড-১৮৬০; রুজু করা হয়।
ঘটনার পরবর্তী ২য় দিন এজাহার নামীয় ১ ও ২নং আসামীর ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে আসামী রুহুল আমিন (২৮), পিতা ইউনুস আলী,কুটিপয়রাডাঙ্গা, থানা-নাগেশ্বরী, গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত আসামীও ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আসামীদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে মামলাটির তদন্তকালে এই ছিনতাইকারীর মূলহোতা ও পরিকল্পনাকারী এজাহার ভুক্ত ৩নং আসামী মোঃ মোস্তফা (৩০), পিতা- হানিফ মন্ডল, থানা-ভূরুঙ্গামারী, জেলা-কুড়িগ্রাম মর্মে প্রাথমিক ভাবে প্রকাশিত হয়। ৩নং আসামি দীর্ঘদিন আত্নগোপনে থাকার পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও কুড়িগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় আসামী মোস্তফা (৩০) কে ২৫ এপ্রিল বিকাল আনুমানিক ০৫.৩০ ঘটিকায় কুড়িগ্রাম থানাধীন জিয়া বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করা ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রধান করে। ধৃত আসামীর স্বীকারোক্তি জবানবন্দি মোতাবেক অভিযান পরিচালিয়ে তার দেখানো মতে বসত বাড়ির পশ্চিম ভিটার পূর্ব দুয়ারী চৌচালা টিনের ঘরের চাঙ্গের উপর হতে ৭,৪০,০০০/ টাকার মধ্যে বিকাশের জনতা ট্রেডার্স কোম্পানীর ব্যাগ সহ ৬,৬০,০০০/ টাকা রাত্র ০৩.৪৫ ঘটিকার সময় উদ্ধার করেন থানা পুলিশ। ছিনতাই হওয়া মোপ ১৫,০০০০০/- (পনের লক্ষ) টাকার মধ্য হতে সর্ব মোট ১৪,২০,০০০/- (চোদ্দ লক্ষ বিশ হাজার) টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন পুলিশ প্রশাসন।
এই বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম এর নিকট জানতে চাইলে, তিনি বলেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় ছিনতাই হওয়া ১৫ লক্ষ টাকার মধ্যে আমরা দুটি অভিযানে ১৪ লাক্ষ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছি। ব্যবহৃত মোটসাইকেল ও অন্যান্য সকল আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং জড়িত আসামীদয়কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)