
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগিদের ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রাবণী রায়। টাকা পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন হতদরিদ্র ওই ৫ নারী। শনিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টাকা ফেরৎ দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মিদের জানিয়েছেন ইউএনও।
ওই পাঁচজন নারী হলেন- উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী আসমা বেগম, ছাইফুল হোসেনের স্ত্রী ইঞ্জিরা বেগম, মৃত হাসমত আলীর স্ত্রী রাবিয়া বেগম, মৃত আবেদ আলীর স্ত্রী রিজিয়া বেগম, মৃত তারামিয়ার স্ত্রী হাবিয়া বেগম। তারা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেতে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন তাঁরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর তিনি টাকা উদ্ধার করে দিয়েছেন। নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় টাকা ফেরৎ পেয়ে খুশি হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে গুরুদাসপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই ভুক্তভোগি ৭ জন নারী নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিকারেরও নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ৭ জন মহিলাকে দিয়ে একটা মহল তার বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। নিজের ও দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ নারীকে অভিযোগের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রাবণী রায় বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি প্রথমে তদন্ত করা হয়। পরে প্রতারণার শিকার নারীদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করে টাকা ফেরত দিতে তিনি সহায়তা করেছেন মাত্র। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রচার করেছেন। মূলত সরকারি দায়িত্ব অনুযায়ি শুক্রবার সকালে অবসরকালিন সময়ে ওই নারীদের অফিসে ডেকে উদ্ধারকৃত ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)