

সারা বাংলাদেশে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভোলাতেও অভ্যন্তরীন ও দুর-পাল্লার সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছিল লঞ্চ মালিক সমিতি। এতে করে চরম বিপাকে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। নৌ যান চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা টু ভোলা সহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রবিবার (৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই জেলার ৮ রুটে ১৬ ঘাট থেকে ছেড়ে যায়নি কোন লঞ্চ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকেই ঘাটে এসে গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে গেছেন। কিন্তু লঞ্চ না থাকায় কেউ কেউ আবার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত ভাড়া ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ,স্পীডবোটে বরিশাল ও লক্ষীপুরে যেতে দেখা গেছে।
জানাযায়, গতকাল রাত থেকে ভোলা-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ভোলার সাথে খুলনা-চট্রগ্রাম, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ২১টি জেলার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ভোলার নৌ পথ। লঞ্চই যাত্রীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিরম্বনার মধ্যে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। ঘাটে এসে অনেকেই ফিরে গেছেন। তবে দুপুর ১২ টার পর থেকে ভোলার ইলিশা-লক্ষীপুর রুটে অধিক ভাড়া নিয়ে ছোট ছোট লঞ্চ পাড়াপাড় করতে দেখা গেছে।
ইলশাঘাটে আঃ কাদের মিয়া ঢাকার সদরঘাট থেকে এসেছেন।আলাপ কালে তিনি বলেন, আমার বাড়ির লোক অসুস্থ ভোলা মেডিকেলে আছে তাদের দেখতে ঢাকা সদরঘাট থেকে আমি ও আমার ছেলে ৩০০ টাকার ভাড়া দুই হাজার ২০০ টাকা করে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দিয়ে লক্ষীপুর পর্যন্ত এসছি। মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিয়া এপার আইছি। কি করমু আমরা তো তাগো কাছে আটকা।
একই রকম ফেরদৌসী বেগম বলেন, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছিলাম। গতকাল ডাক্তার দেখানোর পরে লঞ্চ না পেয়ে বিভিন্ন গাড়িতে অধিক ভাড়া দিয়া মজু চৌধুরীর ঘাটে আসছি। এখান থেকে লঞ্চে ১৫০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নিছে।
আরেক যাত্রী মো. ইফতেখার আলম ঢাকার মোহাম্মদপুর যাবেন ঘাটে কথা হয় তার সাথে তিনি বলেন,আমি ঢাকায় সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করি। পারিবারিক কাজে দুই দিনের ছুটিতে বাড়ি আসছি। এখন ছুটি শেষে লঞ্চ ধর্মঘটে বিপাকে পরেছি। ওইদিকে অফিস থেকে বার বার ফোন দিচ্ছে কাজে যাওয়ার জন্য। রাতে মধ্যে ঢাকা পৌচ্ছাতে না পারলে চাকরি টা মনে হয় থাকবে না।
কথা হয় চরফ্যাশন থেকে আসা আরেক যাত্রী হুমায়ুন কবির এর সাথে তিনিও ঢাকায় যাবেন। তিনি বলেন, আমার ছেলের মেরিন ইন্জিনিয়ারিং এর মেডিকেল রিপোর্ট আগামী ১৫ তারিখ এর মধ্যে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। আজকে মেডিকেল টেষ্ট দিলে রিপোর্ট আসতে ৪ /৫ দিন সময় লাগে রিপোর্ট আসতে তাই। ইমারজেন্সি ভিত্তিতে ছেলেকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দিছি। ঘাটে লঞ্চ নাই এখন অধিক ভাড়া দিয়ে স্পীডবোটে করে যেতে হচ্ছে।
বিআইডব্লিটিএ সহকারি পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে ভোলা-লক্ষীপুর, ভোলা-বরিশাল, ভেলুমিয়া-ধুলিয়া, নাজিরপুর-কালাইয়া, দৌলতখান-মির্জাকালু-আলেকজেন্ডার ও ভেদুরিয়া-লাহারহাট রুট থেকে কোন লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। তবে ভোলা-লক্ষীপুর ও ভোলা-বরিশাল রুটে ফেরী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এবং দুপুরের পরে ইলিশা-লক্ষীপুর রুটে ২/১ দিটি ছোট লঞ্চ করতে দেখা গেছে।
ভোগান্তি লাগবের জন্য দ্রুত ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)