
পটুয়াখালীর বাউফলে উপকূলীয় চরাঞ্চল সমন্বিত প্রাণি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের মাঝে হাঁস, মুরগি, ভেড়া, খাদ্য ও ঘর বিতরণ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে করার কথা থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো এবং টাকার বিনিময়ে তার পছন্দের লোকজনকে বিতরণ করেন বলে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উক্ত প্রকল্পের এক এল এফ এফ কর্মী মাসুমের বিরুদ্ধে।
তিনি উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নে এল এফ এফ পদে দায়িত্বরত আছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দশটি ইউনিয়নে ৫ হাজার সুবিধাভোগী মানুষের মাঝে হাঁস-মুরগি, ভেড়া, ঘর ও খাদ্য বিতরণ করেন। প্রতি ইউনিয়নে ৫শত মানুষ এ সুবিধা ভোগ করেন। বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এই নাম এল এফ এফ এর মাধ্যমে কার্যালয়ে জমা দেবেন, তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এল এফ এফ কর্মী মাসুম বিল্লাহ নিজের ইচ্ছামত বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নাম জমা দিয়েছে। ১১ জন সুবিধাভোগীর ৩৩ টি ভেড়া ও ৫০ বস্তা খাবার মাসুম তার বাড়ির পাশে বাবুল নামের এক ব্যক্তির বাসভবনে মজুদ করে। এছাড়াও মাসুমের নিজ গৃহে ১২ বস্তা খাদ্য ও ৩৬ টি হাঁসের সন্ধান মিলে। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এ প্রকল্প থেকে মাসুম হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা।
এ ব্যাপারে কেশবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালেউদ্দিন পিকু বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দকৃত মালামাল ইউনিয়ন পরিষদে বসে বিতরণ করার কথা কিন্তু মাসুম তার নিজ বাড়িতে বসে ৯/৬ করে বিতরণ করে। ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ওয়ার্ডে আমি ২৫ জনের নামের তালিকা দেই, মাসুম সেখান থেকে ২০টি নাম কেটে দিয়ে নিজের ইচ্ছামত নাম দেয়। মাসুমের এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালেউদ্দিন পিকু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দরখাস্ত প্রদান করেন কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। গত ২৪-৭-২০২৩ খ্রী. কেশবপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে মাসুম বিল্লাহর এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাসুম বলেন, সাবেক প্রাণিসম্পদ সচিব আমার আত্মীয়, কাজ করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ সারথির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে মালামাল বিতরণে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে না। যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)