
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত কুকুয়া ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করেছেন স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেল ও এলাকাবাসী। এতে হাজারো পথচারী ও যানবাহনের ভোগান্তি কমবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু হয়। টানা আট দিনের প্রচেষ্টায় সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়। শ্রমিক জন্টু সিকদার ও মো. আলগীর আকন বলেন, “এই আট দিন কাজ করার পর মনে হচ্ছে রাস্তা যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে।”
এলাকাবাসী এই মানবিক উদ্যোগের জন্য স্কুল শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেলকে ধন্যবাদ জানান।
কুকুয়া ইউনিয়নের শহীদ সরোয়ারদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কুকুয়া বাজার থেকে ছুবান্ধি পর্যন্ত এই রাস্তার পাশে রয়েছে একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব, আবাসন প্রকল্প এবং শত শত বসতবাড়ি। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানিতে সড়কের বেশিরভাগ অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কুকুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. জুলহাস বলেন,
“দীর্ঘ এক যুগ ধরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে ছিল। বহুদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানালেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোনো তৎপরতা ছিল না। এই সংকটে এগিয়ে আসেন কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেল। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তার সংস্কার কাজ করেন।”
এছাড়াও জানা যায়, রুবেল অতীতেও স্থানীয় একাধিক ব্রিজ, কালভার্ট ও সাঁকো সংস্কারে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নিজের মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, “আমি একজন শিক্ষক, সামান্য আয় করি। তবুও সাধ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক সংস্কারে সবসময় কাজ করি।”
তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, সবাই মিলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করি।”
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)