
জামালপুরের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ বাড়লেও হাসপাতালটিতে নেই ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক কর্নার বা আইসোলেশন ওয়ার্ড। ফলে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই জায়গায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে ভোগান্তি, অন্যদিকে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
৫০ শয্যার সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। অনেক রোগীকে শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় বেড, বালিশসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সংকটের অভিযোগও রয়েছে রোগী ও স্বজনদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ছয়জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৫ জন। এর আগে গত মাসে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৯ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২০৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রোগীদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় অনেক সময় নির্ধারিত শয্যা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে মেঝে কিংবা বারান্দায় রোগী রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আশরাফুন নাহার বৃষ্টি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় কিট ও ওষুধ রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমে যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়, সে বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের সচেতন করা হচ্ছে।
এদিকে রোগীর চাপ সামাল দিতে পৃথক ডেঙ্গু কর্নার বা আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু, পর্যাপ্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)