
সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় চুরির অভিযোগে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে।
গত সোমবার রাত ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর তাকে মারধর করে কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক শিকল ধরে কিশোরীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরী অঝোরে কাঁদছিল। তবে ভিডিওতে ওই যুবকের চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়নি।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে শাহপরান থানা পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করা হলেও এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কিশোরীকে শিকল বেঁধে সড়কে হাঁটানোর বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কেউ এমনটি করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে সাধারণ নাগরিক আটক করতে পারেন। তবে তাকে বিলম্ব না করে পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে। আটক ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার কোনো অধিকার সাধারণ নাগরিকের নেই।
আইনজীবীর মতে, কোনো কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে প্রকাশ্যে হাঁটানো, মারধর কিংবা শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা অত্যন্ত অমানবিক এবং আইনপরিপন্থী। অপরাধের অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সচেতন মহল বলছে, চুরির অভিযোগ সত্য হলেও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে এভাবে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতন করা সমাজে আইনের শাসনের পরিবর্তে ‘জনতার বিচার’কে উৎসাহিত করে। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)