
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদল নেতার ফোন না ধরাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চলাচলকারী ‘তিতাস কমিউটার’ ট্রেনের কাউন্টার ম্যানেজার ও বুকিং ক্লার্ককে মারধর করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১,টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার ব্যক্তিরা হলেন তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার মহিউদ্দিন আহমেদ সজীব এবং বুকিং ক্লার্ক মোঃ কাউসার হোসেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি দীর্ঘদিন ধরে তিতাস কমিউটার ট্রেনের এজেন্টশিপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তবে ট্রেনের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এতে সম্মতি দেয়নি।
আজ সোমবার সকালে যুবদল নেতা সানি ফোন করে বুকিং ক্লার্ক কাউসার হোসেনকে তাঁর এক পরিচিত ব্যক্তির জন্য দুটি টিকিট দিতে বলেন। এরপর কাউসার স্টাফ রুম থেকে কাউন্টারে যাওয়ার পথে স্টেশন এলাকায় কয়েকজন টিকিট কালোবাজারি তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং মারধর ও হেনস্তা করে।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর যুবদল নেতা সানি আবারও বুকিং সহকারীকে বারবার ফোন করেন। কিন্তু আগের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কারণে তিনি ফোন রিসিভ করতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা সানি সরাসরি রেল স্টেশনে এসে তিতাস কমিউটারের টিকিট কাউন্টারে হামলা চালান। সেখানে উপস্থিত বুকিং সহকারী ও ম্যানেজারকে এলাপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার পর চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে কাউন্টারের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেন কর্মচারীরা। এতে টানা প্রায় দেড় ঘণ্টা টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন তিতাস কমিউটার ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুনরায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য, ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) মোঃ শাহ আলম মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীরা পুলিশ ফাঁড়িতে এসেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযুক্ত পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)