
চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবিও করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেলটি ফেরত দিতে তাকে চাপ দেয়া হলেও করিম চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ।
পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়।
ডিবি জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে নগরের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে অভিযান চালানো হয়। সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে সেলিম ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি লোহার এলজি, একটি এয়ার গান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে।
হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)