
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ৪ নম্বর ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলা দেয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী মোসা. হিরা মনি ওই এলাকার মো. হাসান শেখের স্ত্রী।
হিরা মনির অভিযোগ, বাড়ির পাশ থেকে নারকেল পাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার স্বামীর চাচা শেখ আহাম্মদ আলী, চাচাতো ভাই শেখ বাদশা এবং চাচি-শাশুড়ি পারভিন বেগম তাকে মারধর করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় তিনি ৯ মাসের গর্ভবতী ছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ফকিরহাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহেরা খাতুন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নেন। এ সময় ব্র্যাকের প্রতিনিধি রিনা এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেন্ডার প্রোমোটার সুপ্রিয়া সরকার উপস্থিত ছিলেন।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানালে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে একজন প্রতিনিধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় খরচে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. তানভীর মাহমুদ অনিক বলেন, ৯ মাসের গর্ভবতী নারীর ওপর এভাবে মারধর করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তার আগে সিজারিয়ান অপারেশনও হয়েছে। ফলে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। কয়েকটি পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর শুরুতে শিশুর হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে পরে শিশুর হার্টবিট পাওয়া যাওয়ায় বর্তমানে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা রেহানা আক্তার বলেন, ৯ মাসের গর্ভবতী নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা এবং গর্ভের শিশুর বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহেরা খাতুন জানান, প্রথমে আহত নারীকে সুস্থ করে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি সুস্থ হওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)