
শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে একটি কোচিং সেন্টার সিলগালা করে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী বাজারে হরিণা রোডসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘দ্যা নিউ কনটেস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কোচিং’ সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নয়ন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুলবাড়ী বাজারের হরিণা রোডসংলগ্ন একটি ভবনে ২০০৬ সালে ‘দ্যা নিউ কনটেস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কোচিং’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন নয়ন কুমার রায়।
সম্প্রতি ওই কোচিং সেন্টারে পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন ফুলবাড়ী বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা কোচিং সেন্টারটি বন্ধ এবং পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কোচিং সেন্টারটি আগে অন্য একটি স্থানে পরিচালিত হতো। সেখানেও বিভিন্ন ঘটনার কথা তারা শুনেছেন বলে দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য কোচিং সেন্টারে আসে। সেখানে তাদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোচিং সেন্টারের পরিচালক নয়ন কুমার রায়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এ ধরনের অঙ্গভঙ্গি করছিল—বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
নয়ন কুমার রায়ের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি দুই দিন আগের। কিছু ব্যক্তি ভিডিওটি সম্পাদনা করে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম. আছাদুজ্জামান বলেন, ভিডিওটি দেখার পর তিনি তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান। পরে ফুলবাড়ী বিটের পুলিশ কর্মকর্তা ও টহলরত পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওসি বলেন, পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. মিকাইল বলেন, যেকোনো ধরনের অগ্রহণযোগ্য কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর। এ ধরনের ঘটনা কোথাও ঘটা উচিত নয়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় থানা পুলিশের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দেখা ভিডিওর ভিত্তিতে কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করা হয়েছে। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি প্রকৃত নাকি সম্পাদিত বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)