
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও তাঁর বন্ধুর কাছ থেকে টাকা, ব্যাগ ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুমকী থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ দুমকী গ্রামের তালুকদার বাড়ি সংলগ্ন জামিয়া-ই-ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুমকী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই শিক্ষার্থী এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় ঘুরতে বের হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এজাহারভুক্ত আসামিরা তাঁদের অটোরিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় তাঁর বন্ধুকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। তাঁর বন্ধুর সঙ্গে থাকা সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, ব্যাগ ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এ সময় কয়েকজন যুবক অটোরিকশায় উঠে তাঁর ব্যাগ টানাটানি করেন এবং তাঁর শরীর স্পর্শ করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকেও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মামলার এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—খলিল মৃধার ছেলে রিফাত মৃধা, সাত্তার তালুকদারের ছেলে হাসান তালুকদার, হানিফ তালুকদারের ছেলে মাহিন তালুকদার, জলিল হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার এবং আব্দুর রব তালুকদারের ছেলে রফিক তালুকদার। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের সবার বাড়ি দক্ষিণ দুমকী গ্রামে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থী ও তাঁর বন্ধুকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের অটোরিকশায় করে দুমকীতে পাঠিয়ে দেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি সেখানে না পৌঁছালে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত।
ঘটনার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে খুদে বার্তায় তিনি ঘটনাটিকে গুজব বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. জামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটলেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একজন নারী কেন মামলা করেছেন, বিষয়টি বুঝতে হবে।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)