
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মো. নাঈম (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে নানার বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশের রাস্তায় তার লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়িসংলগ্ন ধানখেতের পাশের রাস্তা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানীনগর মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করছিল।
নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, শনিবার নাঈম মাদরাসা থেকে নানার বাড়িতে আসে। সোমবার রাতে খাবার খেয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় নাঈমকে ঘরে না পেয়ে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশে রাস্তায় নাঈমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এবায়েদ উল্যাহর অভিযোগ, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তারের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন। এমনকি ছেলের আয়-রোজগার খেয়ে কীভাবে থাকে তা দেখে নেবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে নিহতের মা তার বাবাকে সন্দেহ করছেন।
তিনি আরো বলেন, নাঈমের মৃত্যুর খবর জানাতে সকালে তার বাবাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে যোগাযোগ করা হলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। দুপুর ১টা পর্যন্তও তিনি লাশ দেখতে আসেননি বলে দাবি করেন এবায়েদ উল্যাহ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, নাঈমের থুতনির নিচে চিলার মতো দাগ দেখা গেছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম অথবা ফেনীতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং আসছেন।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাঈমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)