
বরগুনার আমতলীতে জমি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে জমি দখলের চেষ্টা ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া মৌজায় ৯ দশমিক ৭৬ একর জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আবদুল ও রহম আলী। ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কবলা দলিলের মাধ্যমে রমজান আলী খান গংরা, যুবরাজ হাওলাদার ও মো. হারুন মুসুলি গংরা ওই জমি ক্রয় করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকে তারা নিয়মিত ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২১ সালে মামুন ও তার মা ওই জমি নিয়ে একতরফা সোলেনামা করেন এবং ওই সোলেনামার ভিত্তিতে জমি নামজারি বা জমাখারিজ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে রমজান আলী খান গংরা বরগুনা জজ কোর্টে ওই ডিগ্রি বা আদেশ রদের মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
মামলার পর আদালতের আদেশে ওই কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামুন হাইকোর্টে গিয়ে ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ বাতিল করান। এরপর আপিল বিভাগ রমজান আলী খান গংয়ের স্থগিতাদেশ বহাল রেখে বরগুনার জজ কোর্টে চলমান ডিগ্রি রদের মামলাটি দ্রæত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে মামলার বিষয়ে ‘স্ট্যাটাস কো’ (স্থিতাবস্থা) দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘স্ট্যাটাস কো’ থাকায় আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিটি যে অবস্থায় ও যে দখলে ছিল, সে অবস্থাই বজায় থাকার কথা। তাদের দাবি, জমিটির পূর্ববর্তী দখল রমজান আলী খান গংরা ও তাদের কাছ থেকে জমি ক্রয়কারী ব্যক্তিদের হাতেই ছিল। ফলে চলমান ডিগ্রি রদের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামুনের পক্ষ থেকে জমির দখল নেওয়া বা এর প্রকৃতি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
আপর দিকে, মো. হারুন মুসুলি গংয়ের অভিযোগ, মামুন প্যাদা তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে হয়রানি করছেন। এতে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মো. জাফর বলেন, মামুন প্যাদা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছেন। অপর ভুক্তভোগী মো. ইয়ামিন খান বলেন,“মামুন প্যাদা ও তার মা নিজেদের মধ্যে একতরফা সোলেনামা তৈরি করেছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত মো. মামুন প্যাদা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, তারা বিভিন্ন ভাড়াটে লোক এনে জমি জোর করে চাষ করেছেন। তারা আইনকানুন কিছুই মানে না। আমি তাদের বিচার চাই।
এবিষয়ে আমতলী থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)