
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার রুকনাই কমিউনিটি ক্লিনিকে অসুস্থ শিশুর জন্য ওষুধ নিতে গিয়ে এক গৃহবধূ অশালীন আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রুকনাই কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. রাশেদুজ্জামান রিপনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং কয়েকজন এলাকাবাসী ক্লিনিক এলাকায় গিয়ে ঘটনার তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে দুরমুঠ ইউনিয়নের রুকনাই কমিউনিটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ। তাঁর স্বামী মো. মিসকিন মিয়া (২৫)।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ মাস বয়সী অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে তিনি তাঁর ননদের সঙ্গে ক্লিনিকে যান। শিশুর জন্য ওষুধ নেওয়ার সময় সিএইচসিপি রাশেদুজ্জামান রিপন নানা কথার একপর্যায়ে তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় বিব্রত হয়ে তিনি দ্রুত ক্লিনিক থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যান।
বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানালে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে একদল লোক ক্লিনিক প্রাঙ্গণে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে রাশেদুজ্জামান সেখান থেকে চলে যান।
দুরমুঠ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি ক্লিনিকে যাই। ওই নারী তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছেন। পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।
ভুক্তভোগীর শাশুড়ির অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে যদি কোনো নারী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, ওই সিএইচসিপির বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। তাঁদের দাবি, ক্লিনিকে ওষুধ থাকা সত্ত্বেও কখনো কখনো তা রোগীদের না দিয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে রাশেদুজ্জামান রিপনের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো.আহসান হাবীব বলেন, বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকেই জানতে পারলাম। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)