
বাগেরহাটের ফকিরহাটে শিরীন হক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিয়মিত নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে পুরস্কার হিসেবে ১০ নম্বর বেশি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায়। এমন উদ্যোগে প্রশংসা পাওয়ার কথা থাকলেও আজ তাকেই পড়তে হয়েছে সমালোচনার মুখে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শিরীণ হক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুলবশত বলে ফেলেন, যারা নামাজ পড়বে তাদের ১০ নম্বর কম দেওয়া হবে। অথচ তার ঘোষণাটি ছিল নিয়মিত নামাজ আদায় করলে ১০ নম্বর বেশি দেওয়ার।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর বক্তব্যের মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সমালোচনা, ওঠে শাস্তির দাবি। এরপর থেকেই সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার অভিযোগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায়। গত দু’দিন ধরে বিদ্যালয়েও আসছেন না তিনি। যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই শিক্ষককেই এখন কাটাতে হচ্ছে দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তায়।
দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভিডিও প্রচারের অভিযোগ
তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাদের অভিযোগ, ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মূল বক্তব্য থেকে পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিও কেটে প্রচার করেছেন।
তারা বলছেন, একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিতে লাগে কয়েক মুহূর্ত, কিন্তু সেই ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া অপবাদ একজন মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, সামনে আসুক প্রকৃত সত্য।
ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অপপ্রচারের অভিযোগ
উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী (গনিত)শিক্ষক শুব্রত মহলী জানান, প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালানো হয়ে তা সম্পূর্ণ মিথা বিত্তিহীন, এটা সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত আক্রস থেকে করা হয়েছে।
একমাস পূর্বে হয়ওা অনুষ্টানের ভিডিও এখন খন্ড করে কেটে প্রচার করার কোনো যৌক্তিকতা নেই,এই শিক্ষক আরো বলেন হয়তো পূর্বের অনুষ্টানে কেউ হয়তো দাওযাত না পাওয়ার কারনে ব্যাক্তিগত আক্রশ থেকে এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
খণ্ডিত ভিডিও প্রচারে শিক্ষকের সম্মানহানির অভিযোগ
উক্ত বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার নওড়িন জানান, খণ্ডিত ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বিতর্কিত করা হচ্ছে। যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আর যেন কোন শিক্ষকের সম্মানহানী না করা হয়।
যাচাই না করে কোনো তথ্য ছড়িয়ে দিলে একজন মানুষের সম্মান ও সামাজিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি ঘটনাটি সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
এবিষয়ে ফকিহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ জামান জানান, ঘটনাটি তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, উক্ত কমিটি আগামী ৭কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানান তিনি।
একটি ভিডিও বদলে দিয়েছে একজন শিক্ষকের স্বাভাবিক জীবন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশের প্রত্যাশা সবার।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)