
বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরসভার হলরুমে এ মতবিনিময় সভায় তিনি বিগত পাঁচ বছর সহযোগিতা করার জন্য পৌরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় মেয়র বলেন, পৌরসভার জন্য একটি সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু সেটি এখনো অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন হলে আগামী পরিষদে যারাই আসবেন- তাঁরা সেটি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ৫০ কিংবা একশত বছর পরও এ পৌরসভা একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
তিনি উপস্থিত সাংকাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার আমাদের সকল উন্নয়ন কাজের প্রশংসা যেমন করেছেন তেমনী সমালোচনাও করেছেন। আমরা সেসব থেকে উৎসাহ পেয়েছি এবং শোধরানোর চেষ্টা করেছি। সেজন্য আপনারা জানেন ২০১৭ সালের আগে এ পৌরসভা কেমন ছিল, কি অবস্থায় ছিল আর আমরা কিভাবে সেটি রেখে যাচ্ছি। তিনি পৌরবাসীর উপর বিচারের দায়িত্ব দিয়ে বলেন, ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ষোল বছর বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। পৌরবাসী আন্দোলন সংগ্রাম করে নির্বাচন আদায় করেছিলেন। বিশেষ করে পৌর নির্বাচন দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক, সদস্য সচিবসহ এ পরিষদের সবার আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের ফলে ২০১৭ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি পৌরসভা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিতরণ তুলে ধরে বলেন, আমরা দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি। পৌরসভার সড়ক উন্নয়নে সেটার প্রতিফলন ঘটেছে। সিলেট বৃষ্টি প্রবন এলাকায় বিটুমিনের রাস্তা সহজে ভেঙ্গে যায়। তাই আমরা আরসিসির মাধ্যমে রাস্তার উন্নয়ন কাজ করেছি। পৌরসভার অনেক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক রাস্তা এখনো নির্মান হয়নি, অনেক রাস্তা এখনো কাঁচা রয়েছে। আগামীতে সুযোগ পেলে অবশিষ্ট উন্নয়ন কাজ আমরা করতে পারবো। পৌরবাসীর কাছে সে সুযোগ কামনা করি।
মতবিনিময় সভায় বিয়ানীবাজার পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ করেন পৌর মেয়র। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে পৌরসভা আইনের ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পরবর্তী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। প্রশাসক নিয়োগ আইনের বিষয়ে আমাদের দ্বিমত ছিল। এরকম আইন আমরা চাই না যে আইন জনগণের অধিকার খর্ব করে, জনপ্রতিনিধিদের অধিকার খর্ব করে। এটি জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি কালো আইন। তারপরও আমাদের সরকার আইন করে ফেলেছেন এবং নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই প্রশাসকের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবো।
পৌরসভার জনকল্যাণমুলক সকল উন্নয়ন কাজ, সকল সফলতা পৌরবাসীর এবং যা ব্যর্থতা আছে সব নিজের, ব্যর্থতা দায় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। যদি পৌরবাসী আবারো সুযোগ দেন তাহলে বিয়ানীবাজারের উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেব, বিয়ানীবাজারবাসী মান মর্যাদা রক্ষা করে এগিয়ে যাবো। দীর্ঘ পাঁচ বছর আপনারা সহযোগিতা করেছেন। এই সময়ে যদি কোন ভুল ত্রুটি করে থাকি ক্ষমা করবেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. নাজিরা চৌধুরী, প্যানেল মেয়র নাজিম উদ্দিন, কাউন্সিলর মরিয়ম বেগম, মালেকা বেগম ও মিছবাহ আহমদ সহ প্রিন্ট ও ইলট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: 01783952169 (whatsapp)