শেষ হল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন

0
27

অনলাইন ডেস্ক

মোট ৯৪টি বিল পাস ও ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।

২৫ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে গঠিত হয়েছে সাতটি কমিটি; আর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ২৮০ জন সদস্য।

বৃহস্পতিবার অধিবেশন শেষে সমাপনী ভাষণে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে তিনি প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতির ১২ মার্চের ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্পিকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয় ১২ মার্চ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের “সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে” জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর এই অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

তার ভাষায়, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা তিনি এই অধিবেশনে দেখেছেন, অতীতের কোনো সংসদে তেমনটা দেখেননি।

তিনি বলেন, “আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংসদীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী করা; দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

“আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিই।”

অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়।

স্পিকার জানান, অধিবেশনের শুরুতে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম যে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, তার ওপর কোনো সংশোধনী নোটিস পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি প্রস্তাবটি ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

ধন্যবাদবার্তায় বলা হয়, জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে সমবেত সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের ১২ মার্চের ভাষণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছেন।

২৫ কার্যদিবস, ৯৪ বিল, ১৩৩ অধ্যাদেশ

সমাপনী ভাষণে স্পিকার বলেন, এই অধিবেশনে কার্যদিবস ছিল ২৫ দিন। এই অধিবেশনে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে। উত্থাপন হয়েছে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। আইন প্রণয়ন কার্যাবলীর পাশাপাশি গঠিত হয়েছে সাতটি কমিটি। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটি রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ২৮০ জন সদস্য। এই আলোচনা চলে ৪০ ঘণ্টার বেশি।

স্পিকার বলেন, সংসদে একটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

তার ভাষায়, “এই সংসদে মোট ২২০ জন সদস্য প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তারপরেও আপনাদের গঠনমূলক আলোচনা ও সহনশীল আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।”

সমাপনী ভাষণে স্পিকার সংসদীয় বিধির আওতায় বিভিন্ন নোটিস ও আলোচনার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিস পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি গৃহীত হয় এবং দুটি নিয়েই আলোচনা হয়। ৬৮ বিধিতে নয়টি নোটিস পাওয়া যায়; এর মধ্যে একটি গৃহীত হয় এবং সেটির ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

৭১ বিধিতে মোট ১,১৯৮টি নোটিসের মধ্যে ৪২টি গৃহীত হয় এবং ৩৮টির ওপর আলোচনা হয়। ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়া হয় ২০৭ বার। ১৬৪ বিধিতে ১৪টি নোটিসের মধ্যে একটি গৃহীত হয়ে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ২৬৬ বিধিতে একটি নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে ৯৩, মন্ত্রীদের জন্য ২,৫০৯ প্রশ্ন

স্পিকার বলেন, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরের জন্য ৯৩টি প্রশ্নের নোটিস পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৫টির উত্তর তিনি সংসদে দিয়েছেন। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরের জন্য ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর সংসদে দেওয়া হয়েছে।

সমাপনী ভাষণে স্পিকার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে “রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদান ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার” জন্য অভিনন্দন জানান।

একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সংসদীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি চিফ হুইপ, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধী দলের সদস্য, ডেপুটি স্পিকার, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান।

স্পিকার জানান, সংসদ সচিবালয় ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সম্মানী ভাতা দেওয়ার যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা দিয়েছেন, তিনি তা ‘সাদরে গ্রহণ’ করেছেন।

সমাপনী ভাষণে স্পিকার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনায় করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রতিপাদ্য এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি সামনে রেখে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি।

স্পিকারের ভাষায়, এসব উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সুসংহত করাও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে স্পিকার বলেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ৩০ এপ্রিলের (বৃহস্পতিবার) বৈঠক শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলতি প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন।

এরপর স্পিকার বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করছি। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”


শেষ হল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here