বিনা পারিশ্রমিকে সহস্রাধিক মৃতদেহের গোসল করিয়েছেন খালেক ঢালী

0
35

মো. তৌফিকুর ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি আমতলী বরগুনা

গত কয়েক দশক ধরে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই সহস্রাধিক মৃতদেহের গোসল করিয়ে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া গ্রামের মো. খালেক ঢালী (৯০)। যেখানে অনেক সময় আপনজনও প্রিয় মানুষের মরদেহ স্পর্শ করতে দ্বিধাবোধ করেন, সেখানে খালেক ঢালী পরম মমতা, দায়িত্ববোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সম্পন্ন করেছেন শেষ বিদায়ের পবিত্র কাজটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় কোথাও কারো মৃত্যুর খবর পেলেই দিন-রাতের তোয়াক্কা না করে ছুটে যান তিনি। গভীর রাত হোক কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। বিনিময়ে কখনো কিছু চাননি; মানুষের শেষ বিদায়ের কাজটুকু সঠিক ভাবে সম্পন্ন করাই ছিল তার একমাত্র তৃপ্তি। এভাবেই বছরের পর বছর নিঃস্বার্থ সেবার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক ও শেষ বিদায়ের নির্ভরতার নাম। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৩ মেয়ের বাবা ভুমিহীন সেই মানবিক মানুষটিই আজ অভাব-অনটন, বার্ধক্য ও শারীরিক দুর্বলতায় বিপর্যস্ত। একসময় মানুষের প্রয়োজনে নিরলস ভাবে ছুটে বেড়ানো খালেক ঢালী এখন নিজের জীবন সংগ্রামে অনেকটাই অসহায়। তার সম্বল বলতে আজ শুধু মানুষের ভালোবাসা, সম্মান আর দোয়া।

খালেক ঢালী বলেন, ‘আমি একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের সেবা করেছি। এই কাজের বিনিময়ে সমাজের কাছে কখনো কিছু চাইনি। মানুষের দোয়া আর ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ তার এই করুণ বাস্তবতায় স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই মানবিক মানুষটির পাশে দাঁড়ানো উচিত। কারণ, যিনি আজীবন অন্যের শেষ বিদায়কে সম্মানজনক করেছেন, তার শেষ বয়সটুকু যেন সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্যে কাটে এ দায়িত্ব সমাজ এড়াতে পারে না।

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘খালেক ঢালীর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হবে।


বিনা পারিশ্রমিকে সহস্রাধিক মৃতদেহের গোসল করিয়েছেন খালেক ঢালী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here