
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলাধীন ৪নং চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে ইট পোড়াতে কাঠ-খড়ি প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং কৃষি জমির ওপর স্থাপিত এসব ভাটা মালিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত দূষিত করছে পরিবেশ ও ক্ষতি করছে কৃষি জমি। ফলে ভাটার ক্ষতিকারক প্রভাবে চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতে ভাটার পার্শ্ববর্তী ফসলি জমিতে কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এদিকে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনোরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইটভাটায় গাছের গুড়ি পোড়ানোয় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে বিপন্ন হচ্ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়েছে ভাটা সংলগ্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও গ্রামীণ জনপদের জনস্বাস্থ্য। অবৈধ ইটভাটার সৃষ্ট দূষণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বয়স্ক ও শিশুরাও। প্রশাসনের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না থাকায় বেপরোয়া মালিকপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ এসব ইটভাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নেই কার্যকর কোনো ভূমিকা। উপজেলা সদর তজুমদ্দিনের অদূরেই চাঁচড়ার কাঁটাখালি গ্রাম ঘেঁষে কৃষি জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে ইটের ভাটা। এতে পরিবেশ ও ফসল উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এসব ইটভাটার মূল ক্লেনের পাশেই বিপুল পরিমাণ কাঠ-খড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে কয়লার পরিবর্তে পোড়ানোর জন্য। ইট ভাটার চিমনির ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ-বালাই ছড়াচ্ছে। ধোঁয়ায় বিষাক্ত হচ্ছে পরিবেশ। তজুমদ্দিন উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,চাঁচড়া রয়েছে ১টি ইটভাটা। ভাটাগুলো একেবারেই গ্রামের ভেতর অবস্থিত। এগুলোর একটিরও বৈধ কাগজপত্র নেই। বিভিন্ন গাছের গুড়ি ও লাকড়ি ভাটাগুলোর প্রধান জ্বালানি। সরেজমিন দেখা গেছে, আবুল কাশেম মালিকাধীন সাবেক নাম মেসার্স সেরা ব্রিকস উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নে। ইটভাটাটি একেবারে প্রধান সড়কের (কাটাখালি-চাঁচড়া) পাশে হওয়ায় বেশির ভাগ সময় পাকা সড়কের ওপর মাটি পড়ে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই এ মাটি গলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে করে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এখানে। এ ভাটাগুলোর চারিদিকেই ফসলি জমি। ভাটাগুলো পাশাপাশি স্থাপন করায় এর ক্ষতিকারক প্রভাবে এলাকার কৃষি ফসল ও রবিশষ্য চাষ ব্যাহত হচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ভাটা মালিকরা ক্ষমতাসীন দলের লোক এবং প্রভাবশালী হওয়ায় এই এলাকার তিনটি ইটভাটায় প্রচুর ট্রাক আসা-যাওয়া করে। এতে করে গ্রামীণ সড়কগুলো নষ্ট হচ্ছে। ইটভাটার ধুলাবালি ও ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ আবাসন অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। গাছপালা বিবর্ণ হচ্ছে। ফসল জমির উর্বরতা কমে গেছে। তারা আরও জানান, পরিবেশ অধিদফতর সরেজমিনে যাচাই করলে কোনো ক্রমেই কৃষি জমিতে এসব ভাটা করার অনুমতি পেত না। অতি দ্রুত ইটভাটা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট চাঁচড়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের মিয়া দৈনিক একুশে নিউজকে বলেন, গ্রামটিতে ইটভাটা থাকায় গ্রামের বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়াও গ্রামটির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তার বোধগম্য হচ্ছে না, কি করে এমন জায়গায় ভাটা করার অনুমতি মিলতে পারে। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে বলেছেন, কিন্তু কোনো প্রকার প্রতিকার মিলছে না।’
এলাকাবাসীর দাবি অচিরেই এসব ইটভাটা এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হউক





