
আঃ রহীম হাজারী,ব্রাব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর প্রতিনিধি
✍️জন্ম ও বংশ
মাওলানা ইমাম হুসাইন হাজারী (রহঃ) ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ ব্রাক্ষণবাড়িয়ার উরশিউড়া গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম হাজী আহমদ হুসাইন হাজারী সরদার।
✍️শিক্ষাজীবন
তিঁনি স্বীয় চাচা মাওলানা আব্দুল মাজিদ হাজারী (রহঃ)-এর কাছে শিক্ষা জীবনের সূচনা করেন। প্রিয় চাচার কাছে পবিত্র কুরআন শিক্ষা এবং উরশিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে চান্দপুর দারুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে ৩বছর লেখাপড়া করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পিতার নির্দেশে তিঁনি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে জালালাইন (১৯৭৯ সাল) পর্যন্ত লেখাপড়া করেন ।তারপর ঢাকা লালবাগ জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় চলে যান। সেখানে ১বছর লেখাপড়া করে আবার ফিরে আসেন ব্রাক্ষণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায়। অতঃপর ১৯৮৩ সালে দাওরায়ে হাদীস ( মাস্টার্স ) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন : ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম, বড়হুজুর আল্লামা সিরাজুল ইসলাম, মুফতিয়ে আযম আল্লামা মুফতি নূরুল্লাহ্ ও নাজেমে আলা আল্লামা আব্দুল লতিফ (রহঃ) সহ প্রমুখ বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও তিঁনি বাংলাদেশের বিখ্যাত ক্বারি ওবায়দুল্লাহ (রহঃ)-এর কাছ থেকে কেরাতে সাবআর উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।।
✍️কর্ম জীবন
শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর ১৯৮৪ সালে তিঁনি শিলাউর ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যােগদান করেন । সেখানে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করার পর নিজ গ্রাম উরশিউড়া জামে মসজিদের প্রধান ইমাম হিসেবে ১৯৯০সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । তারপর বড়হুজুর আল্লামা সিরাজুল ইসলাম (রহঃ)-এর নির্দেশে অষ্টগ্রাম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পাশাপাশি ধানশহর মাদ্রাসার পরিচালক ও জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে পিতার অসুস্থতার কারণে সকল দায়িত্ব থেকে এস্তেফা দিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে এসে মুহাম্মদপুর জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর রামরাইল দারুলউলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা নায়েবে মুহতামিম পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু অবধি ছিলেন।
তারই পাশাপাশি তিঁনি রামরাইল,ভোলাচং,
ঘাঁটিয়ারা,উরশিউড়া, পাতৈরহাতা ও মাগেরউড়া সহ ঐতিহাসিক ৬গ্রাম ঈদগাহের আমৃত্যু ইমামের দায়িত্ব পালন করেন ।সেই সাথে তিঁনি উরশিউড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মুহাম্মদপুর হিলফুল ফুজুল নূরানিয়া মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
✍️ইলমে তাসাউফ
তিঁনি হাকীমুল উম্মত শাহ্ আশরাফ আলী থানভীর (রহঃ) খলীফা প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ফকিহে মিল্লাত মহিউস্ সুন্নাহ আল্লামা শায়েখ আবরারুল হক্ব (রহঃ)-এর নিকট ২০০২ সালে জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় বায়’আত গ্রহণ করেন। এছাড়াও আল্লামা মুহাম্মদউল্লাহ্ হাফেজ্জী, বড়হুজুর রইসুল মুফাসসিরীন আল্লামা সিরাজুল ইসলাম ও মুফতি নূরুল্লাহ (রহঃ)সহ প্রমুখের কাছ বায়’আত গ্রহণ করেন।
✍ব্যক্তিগত জীবন
মাওলানা ইমাম হুসাইন হাজারী (রহঃ) সড়াইল থানার শাহবাজপুর গ্রামের শাহ্ সৈয়দা ফাতেমা বিনতে হাফেজ ফরিদুদ্দিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।তিঁনি ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক। ১ম ছেলে ডা.মুহাম্মদ নূর উল্লাহ ইমাম ,২য় ছেলে ড.ওয়ালীউল্লাহ্ ইমাম,৩য় ছেলে হাফেজ সানাউল্লাহ ইমাম ,
৪র্থ ছেলে হাফেজ হেদায়েত উল্লাহ ইমাম ও ৫ম ছেলে মুহাম্মদ কেফায়েতউল্লাহ ইমাম।
✍মৃত্যু
তিঁনি ২০১৬ সালের ২৭ মে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তাঁর জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন তাঁর ছেলে হাফেজ হেদায়েত উল্লাহ সাহেব। জানাযা শেষে নিজ গ্রামে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থান বাগে হাজারীতে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ শোক প্রকাশ করেছেন।
সৌজন্যে, ড.ওয়ালীউল্লাহ ইমাম।





