
মোঃ শাহজামাল,ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি
অত্র ৩০/০৬/২৩ ইং তারিখে আলোর সন্ধানে ঝিনাইগাতী অনলাইন সংগঠন এর মাধ্যমে “কীর্তিমান বাবাদের সম্মাননা” প্রদানের আয়োজন করা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বিকাল ৪:০০ থেকে ৬:০০ পর্যন্ত অনুষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান থাকে। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন থেকে সাতজন কীর্তিমান বাবাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা স্বরুপ কীর্তিমান বাবাদের সম্মাননা স্মারক ও ক্রেসকার্ড প্রদান করা হয়। যারা প্রত্যেকেই তাদের কীর্তিমান বাবার ভূমিকা ব্যাক্ত করেন। ৭টি ইউনিয়নের কীর্তিমান বাবারা হলেন, জনাব মতো: মনজুরুল হোক সাবেক প্রধান শিক্ষক রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জনাব মো: আব্দুস ছালাম (লাল চাঁন) পেশায় কৃষক, মতো: ওবায়দুল ইসলাম (আবু) সহকারী প্রধান শিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) ধানশাইল উচ্চ বিদ্যালয়, আবুল বাশার অফিস সহকারী (অবসরপ্রাপ্ত) মালিঝিকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতো: সুরুজ্জামান আকন্দ সাবেক কমান্ডার ঝিনাইগাতী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সদস্য, মতো: আব্দুল কাদির পল্লী চিকিৎসক ও মতো: রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক।
সকল কীর্তিমান বাবাদের সম্মাননা স্বরুপ ক্রেসকার্ড ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি মহোদয় কে ক্রেস্ট এর মাধ্যমে সম্মাননা দেওয়া হয়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্যদের কৃতিত্বের জন্য ক্রেস্টকার্ড, সম্মাননা স্বারক ও সর্বোচ্চ রক্তযোগানদাতা কে ক্রেস্ট কার্ড প্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি করেন, ‘আলোর সন্ধানে ঝিনাইগাতী’ সংগঠনের সাংগঠনিক পরিচালক যার হাত ধরে সংগঠনটির সূচনা ও পরিচালনা হয়ে আসছে- মো: শাহ পরান এবং উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জনাব, আবুল হাশেম সাবেক প্রফেসর, আলহাজ্ব শফিউদ্দিন আহমদ কলেজ ঝিনাইগাতী, শেরপুর, সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক হারুন অর রশীদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সকল সদস্যসহ বীর-মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, অভিবাবক, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আলোর সন্ধানে ঝিনাইগাতী (আসঝি) অনলাইন সংগঠনটির সূচনা হয়- ০১ জুন ২০২০ ইং তারিখে। সূচনা লগ্ন থেকেই (আসঝি) বিভিন্ন মানব কল্যানমূলক কাজ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে। যদিও এটি একটি সম্পুর্ণ অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন, যার দ্বরুন এখানে কোনো নিজস্ব বা সরকারি অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না, বরং সাংগঠনিকভাবে সাধ্যমতো মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকে একটু কষ্ট লাঘব করে মানব সেবায় নিয়োজিত হওয়া এই সংগঠনের কাজ। ইতোপূর্বে আসঝি এর উদ্দোগে ব্লাড ক্যাম্পেইন, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, অসহায় দের অর্থদান, বৃক্ষরোপন, বেদেপল্লীতে শিশুদের পাঠদানের ব্যবস্থা, ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তিকে সহায়তা প্রদান, কুইজ প্রতিযোগিতা, শীতকালীন কম্বল বিতরণ, ঈদ সামগ্রিক বিতরন সহ বিভিন্ন ভাবে মানুষের পাশে এসে দুঃসময়ে দু-হাত বাড়িয়ে সাহস ও সহযোগিতা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারে ঈদের পরবর্তী দিন (আসঝি) ভিন্ন রকম আয়োজন করে-
“কীর্তিমান বাবা সম্মাননা” অনুষ্ঠানের। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে বাছাইকৃত সাতজন কীর্তিমান বাবা। এছাড়াও কীর্তিমান বাবাদের আদর্শে গড়া সাভলম্বী সন্তানেরা। সকল বাবাদের কৃতিত্বের গল্পের মাঝে ভেসে ওঠে হাজারো অভাব-অনটন,দুঃখ-দুর্দশার, হাসি-কান্না, ইত্যাদি কল্পনার কাহিনি। যা বলতে গিয়ে অনেকে আত্মা হারায় বলে উঠেন যে, আমার মতো কঠিন জীবন মনে হয় কেউ পাড় করেনি। কিন্তু তারই ধারাবাহিকতায় তারা বলে উঠেন আজ আমরা সত্যি খুব আনন্দিত ও গর্বিত যে, আজ আমার সন্তানেরা সকলেই সাবলম্বী হয়েছে। আলোর সন্ধানে ঝিনাইগাতী অনলাইন সংগঠনের- “কীর্তিমান বাবা সম্মাননায়” আসতে পেড়ে সত্যি আজ বাবারা তাদের কৃতিত্বের কথা ধারণ ও লালন করতে পারেন। একজন বাবার একটা সন্তানের বক্তব্যে জানা যায় তাঁর বাবা একজন দিনমজুর ছিলেন কিন্তু তিনি কখনো চাননি যেন তার সন্তানেরা দিনমজুর অথবা কৃষক হোক, তাহার তীব্র প্রচেষ্টা ও সন্তানদের ইচ্ছায় সকল সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলেন। অন্য এক বাবার বক্তব্যে জানা যায় তিনি একজন বীর-মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাঁর প্রথম সন্তান জন্মের পর তাঁর জন্য বালি পর্যন্ত মুখে দিতে পারেনি। কিন্তু দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আজ তার মেয়ে একজন এস.পি হিসেবে ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় আছেন। এভাবে প্রত্যেক বাবাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক একটি না বলা অনন্য্ গল্প কাহিনি, যা শুনলে হয়তোবা আপনার গাঁ শিহরিত হয়ে যাবে।
আজকের – “কীর্তিমান বাবা সম্মাননা” অনুষ্ঠানে বাবারা তাদের মতামত ব্যক্ত করার মাধ্যমে জানান যে, আজ আমরা যে পর্যায়ে এসেছি এর জন্য একমাত্র অবলম্বন ছিলো আমাদের তীব্র প্রচেষ্টা ও শ্রম। বর্তমানে সমাজে এতোটা কষ্ট লাঘব করতে হয় না, যার দ্বরুন সমাজের বাবা-মা কে সন্তানরা এতটা সম্মানের চোখে দেখে না যা অত্যান্ত দুঃখজনক। সমাজে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যাক্ততা প্রকাশ করেন আদর্শ গড়ার প্রত্যয় ও আশা রাখেন।
ভবিষ্যতে যাতে এরুপ কাজ আরও বেশি ও সচল থাকে এ পরামর্শ দেন বাবারা, সর্বপরি সকল ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিবেন এ ধরনের কাজকর্মে, যা সমাজ,দেশ ও জাতি গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে -কীর্তিমান বাবাদের এই আশা। সর্বশেষে হালকা খাবার বিতরন ও সংগঠনের আহবায়ক মো: শাহ পরান এর বক্তব্যের মাধ্যমে উক্ত অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।





