বন্ধের দ্বারপ্রান্তে কুষ্টিয়ার তিনটি রেলস্টেশন।

মোঃ শামীম খন্দকার,কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলায় রেলস্টেশন আছে মোট ১০টি। এর মধ্যে দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতিও রয়েছে। নানাবিধ কারণে বন্ধের দ্বারপ্রান্তে কুষ্টিয়ার তিনটি রেলস্টেশন। যে স্টেশনটির কথা না বললেই নয়, স্থানীয় লোকের মুখে মুখে মাঝে মাঝেই শোনা যায়। আপনি একটি মানুষ হলেন, আর চড়াইকোল একটি স্টেশন হলো,? কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের পুরোনো বিখ্যাত এই রেলস্টেশনটি, যেন এক মুমূর্ষু রোগী যেন দেখার কেউ নেই। নেই কোন আলোর ব্যাবস্থা সন্ধা হলেই বসে যায় মাদকের রমরমা ব্যাবসা ব্যাবহার। যেন এক মাদকের সিন্ডিকেট। বলছিলাম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার বিখ্যাত চড়াইকোল রেলষ্টেশনের কথা। এ রেলষ্টেশনে বেশ কিছু ট্রেন থামে, যেমন মেইল, স্যাটেল, দিনে রাতে মোট ৪ বার ট্রেন থামে এ ষ্টেশনে কোন টিকেটের ও ব্যাবস্থা নেই। নেই কোন কর্মকর্তা, কর্মচারি। রেলষ্টেশনে অনেক পুরাতন যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, আগের যা ছিলো, সবই এখন প্রায় নষ্ট। বৃষ্টি হলেই সবকিছুই ভিজে একাকার হয়ে যায়। যাত্রীদের প্রচুর ভোগান্তিতে পরতে হয় এই চড়াইকোল রেলষ্টেশনের কোন উন্নতি হয় নি বিগত দিনে।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থা জগতি ও চড়াইকোল রেলস্টেশনে। বাঁকি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনটির অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেও পরিবেশ ভালো নয়। ৬/৭ বছর ধরে বন্ধ আছে জগতি ও চড়াইকোল স্টেশন। আর বড়বাজার স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন থামলেও অবকাঠামোর অবস্থা মোটেও ভালো না। জেলার অবহেলিত তিনটি স্টেশনেই সংস্কার করার পাশাপাশি সব ট্রেনের স্টপেজ দাবি করে আসছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, ১৮৪৪ সালে আর এম স্টিফেনসন কলকাতার হাওড়া থেকে পশ্চিমবঙ্গের কয়লাখনি সমৃদ্ধ রানীগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি গঠন করেন। এ কোম্পানি ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রেললাইন চালু করে। এর পর ১৮৬২ সালের ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত লাইন বর্ধিত করে। ওই বছরেই কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ১১ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন করা হয়। তখনই পূর্ববঙ্গের প্রথম স্টেশন জগতি তৈরি করা হয়েছিল। এর পর ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে জগতি থেকে বর্তমানে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট পর্যন্ত তৈরি করা হয় রেলপথ। তবে কালের আবর্তে লাভজনক জগতি ও কুষ্টিয়া স্টেশনটি এখন পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। অফিসিয়ালি এখানে কোনো আন্তনগর ট্রেন থামে না। ট্রেনের ক্রসিং প্রয়োজন হলেই কেবল স্টেশনগুলোর প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। লোকাল ট্রেনগুলো ২/১ মিনিটের জন্য থামলেও যাত্রী নেই। অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীও দেখা যায় না। অবসরে যাওয়ার পর নতুন করে কোন নিয়োগ বা পদায়ন হয়নি। কুষ্টিয়া, জগতি ও চড়াইকোল স্টেশন তিনটির ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভবনটি ধ্বংসের পথে। জগতিতে অবৈধ দখল কারীরা পাথর এনে স্টেশনে ব্যবসা করছে। স্টেশনের নামে থাকা বিশাল আম বাগান ও পুকুর দখল করে নিয়েছে স্থানীয়রা। মাদকসেবীদের নিরাপদ স্থান এখানে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে স্টেশনগুলো। সরেজমিন দেখা গেছে, কিছু যাত্রী দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনের অপেক্ষায়।


বন্ধের দ্বারপ্রান্তে কুষ্টিয়ার তিনটি রেলস্টেশন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles