
আল ফাহাদ,স্টাফ রিপোর্টার দুমকি পটুয়াখালী
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড.এস এম হেমায়েত জাহানকে কর্তব্যরত অবস্থায় কতিপয় দুষ্কৃতকারী ছাত্র অফিস কক্ষের বাহির থেকে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।গত ১৪ আগস্ট (সোমবার) ২.৪০ মিনিটের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগে তার অফিসকক্ষে এ অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ১৬ আগস্ট (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধন কর্মসূচি এবং আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান শিক্ষক সমিতি। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে গত ১৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান অধ্যাপক হেমায়েত জাহান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট দুপুর ২:৪০ ঘটিকায় ছাত্রলীগের কতিপয় দুষ্কৃতকারী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে অফিস কক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় বাহির থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। মুঠো ফোনে খবর পেয়ে উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে কর্মচারীগন তালা ভেঙ্গে উক্ত শিক্ষককে মুক্ত করেন। এরপরই তিনি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ভিসিকে অবহিত করেন বলে জানান অধ্যাপক হেমায়েত জাহান । এদিকে পবিপ্রবির ছাত্রলীগের এহেন দুষ্কর্মে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশসহ জড়িতদের সনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন, সাদাদল সহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, “এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমি হতবাক, শিক্ষক তার নিজ অফিস কক্ষে নিরাপদ নয়। উক্ত ঘটনায় আমি ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে কালিমা লেপনকারী এই কলঙ্কিত অপরাধীদের অতিসত্ত্বর চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি”।
এ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর জেহাদ পারভেজ বলেন, আমরা এস এম হেমায়েত জাহানকে অবরুদ্ধ করার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছি, ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে যদি তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হয় তবে লাগাতার কর্মবিরতিসহ আরও কঠিন পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
পবিপ্রবি সাদা দলের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ ইকতিয়ার উদ্দিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবং অনতিবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ.দা) এবং প্রক্টর প্রফেসর ড.সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ” এ ব্যাপারে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





