
এম রিয়াজ উদ্দিন,লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারকে ব্যতিক্রমভাবে উপস্থাপন করে সর্বমহলের প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম।
দেখা গেছে, বুধবার( ২১ ফেব্রুয়ারী) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রভাত ফেরি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শুভেচ্ছা কার্ডে তিনি অনলাইনের প্রতীকী শহিদ মিনারের ছবি ব্যবহার না করে লালমোহনের দুর্গম চরের একটি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত শহীদ মিনারের ছবি ব্যবহার করেছেন। ওই বিদ্যালয়টি লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের দুর্গম চর কচুয়াখালীর ‘শহীদ আওলাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই উপজেলায় যোগদানের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দুর্গম চর কচুয়াখালীর শহীদ আওলাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে যাই। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয়রা জানান, এই চর এলাকার বিদ্যালয়টিতে কোনো শহিদ মিনার নেই। যার জন্য শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা কখনোই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ পাননি। তাদের কথার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ওই বিদ্যালয়ে একটি শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য আবেদন করি। ওই আবেদনের পেরিক্ষিতে বিদ্যালয়টিতে একটি শহীদ মিনার নির্মাণের অনুদান পাই। এরপর ২১ শে ফেব্রুয়ারির আগেই বিদ্যালয়টিতে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, যার ফলে দুর্গম চর কচুয়াখালীর শহীদ আওলাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত শহীদ মিনারে এ বছর প্রথমবারের মতো শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নবনির্মিত শহীদ মিনারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষজন পুষ্পস্তক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। নবনির্মিত এই শহীদ মিনারটি দেখে অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতেও যেন শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়, সেই লক্ষ্যে এ বছর লালমোহন উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানারে দুর্গম চরের বিদ্যালয়টিতে নির্মিত শহীদ মিনারের ছবিটি ব্যবহার করেছি।
ইউএনও মো. তৌহিদুল ইসলাম এর এ কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করে হাজী নুরুল ইসলাম চৌধুরী কলেজের প্রভাষক নিয়াজ মেহেদী বলেন, ইউএনও স্যারের এ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমি মনে করি এর মধ্যদিয়ে স্যার সৃজনশীল, দক্ষ ও মানবিক মনের পরিচয় দিয়েছে। লালমোহন ইবাদ এন্টার প্রাইজ এর সত্বাধিকারী ফরিদুল ইসলাম এমএ বলেন, আজ ফেইসবুকে উপজেলা প্রশাসনের শুভেচ্ছা কার্ডে দুর্গম চরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত শহীদ মিনারের ছবি দেখে খুব ভালো লাগলো। আমি মনে করি স্যার সকল ক্ষেত্রে খুবই আন্তরিকতার সহিত কাজ করেন। স্যারের জন্য দোয়া করি। উল্লেখ্য, লালমোহন উপজেলায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে যোগদান করেন ইউএনও মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি এর আগে ভোলা সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। সেখানে দায়িত্বে থাকাকালে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. তৌহিদুল ইসলাম।