
রিফায়াত নিগার
……………………….
ঐ যে আসছেন বিজ্ঞ সব
এখনি ট্রেতে বিছানো হবে
আমি আত্মহননে অভিযুক্ত শব!
এই ধারালো কাঁচি আর করাত
মস্তিষ্কের এ প্রান্ত ও প্রান্ত
করবে বিচ্ছিন্ন, সরাত সরাত
শব্দ আর বের করবে মস্তক
তোমরা কী আমার মস্তিষ্ক পড়তে পার?
কত অনুভূতির সুক্ষ জাল তাতে হবে উন্মুক্ত
কী দেখবে? মৃত্যুর উপকরণ!
নাকি মৃত্যুর বহু পূর্বেই আত্মহনন?
জানো, কেথায় এই বিশৃঙ্খল উপলব্ধি
আমি সমাজ বুঝিনি; নিজেকে মানাতে পারিনি
অসামাজিক সমাজের সামাজিক নথি
বিধ্বস্ত ছিলাম, কারও উপকারে আসিনি
শুধুই নির্মম মৃত্যুর কাছে গণ্ডিবদ্ধ নিয়তি।
এই যা! শুরু করলে কাটা
অতসব কেন বল? আমি তো রেখে গেছি নোট
ঐ কাগজেই আমার জীবন লিখা
সমস্তই সত্য শুধু তোমাদের অন্তর ফাঁকা।
দেখ, দেখ চিরে ঐ বক্ষ
পাবে না এক ফোঁটা রক্তও
সব নীলে নীলাম্বর নাই লালের অস্তিত্ব।
আমি! পাখি ভালোবাসতাম
প্রকৃতির নেশায় নিজেকে হারাতাম
তোমাদেরই মত দূর্বিনীত এক সশরীরির
প্রেমে ছিলাম মত্ত
সে কিনা আমারই অগোচরে অন্যতে আসক্ত।
হ্যাঁ আমি দূর্বল চিন্তার মানুষ ছিলাম
মেনে নিতে পারিনি এ খামখেয়ালি
নিয়মের অনিয়মে আমিও আজ নাম লিখালাম!
আহ! খুব লাগছে এই করাতের শব্দ
ব্যাথা দাও আরও দাও
তবুও আমার মুক্তি ছিনিয়ো না; দিয়োনা অপবাদ, অভিশাপ তাও।
জানি ইহকাল সাঙ্গ করে
পরকালও হলো পর
যা আছে বিধাতার কাছে
জানিনা কী হবে অতঃপর।
এবার তবে খুলে খুলে রাখো আমার সর্বাঙ্গ
দেখ, দেখ আমি রাখিনি কোন চিহ্ন
কাউকে এ ধরায় বাঁধিনি অপবাদে
নিজের এই বিদায় তারই সুবাদে।
বিচ্ছিন্ন চর্বিহীন চর্ম খানি
কালো সুতোর গুটি গুটি মালায় সাজিয়ে
শোনাও রিপোর্টের বাণী
আমি চললাম! টেনে অদৃষ্টের ঘানি।













