ঘোড়াঘাট উপজেলা ৩১ শয্যার জনবলে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, বন্ধ হয়ে গেছে বর্ধিত ১৯ শয্যার ওয়ার্ড

0
94

মোঃ আব্দুল্লাহীল কাফি হোসেন,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

জনবল সংকটে চরম ভোগান্তিতে পরেছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠালগ্নের ৫৮ বছর পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি জনবল ও বাজেট। বন্ধ হয়ে গেছে বর্ধিত ১৯ শয্যার ওয়ার্ড।

শয্যাসংখ্যা বাড়ানোয় উপজেলাবাসীর মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল তা এখন শুধুই হতাশা। কেননা, শয্যা সংখ্যার সঙ্গে বাড়েনি স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ও বাজেট। বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। ফলে জনবল সংকট থাকায় ভর্তি ও বহির্বিভাগের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় একমাত্র আশ্রয় স্থল এই স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য যেখানে ২১ জন ডাক্তারের প্রয়োজন, সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন মেডিকেল কর্মকর্তা। এনেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট নেই। ফার্মাসিস্ট আছে ২জন। এসএসিএমও আছে ৫ জনের মধ্যে ২ জন। অফিস সহায়ক আছে ৪ জনের মধ্যে ১জন। সেনেটারী ইন্সপেক্টর, স্টোরকিপার, ড্রাইভার, ওয়ার্ড বয়, আয়া, সুইপার এবং ইপিআই এর অধীনস্থ স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদ রয়েছে শুন্য। উপজেলার ৪ ইউনিয়নের ৪টি সাব সেন্টারের মধ্যে ১ টি পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। মাঠকর্মি ২০ জনের মধ্যে আছে ১৫ জন। বাগান মালি ১টির স্থলে রয়েছে ২টি। রোগী বহনের জন্য ২টি অ্যাম্বুলেন্স আছে তবে ড্রাইভার না থাকায় ১টি গাড়ি চালায় বাগান মালি অপরটি নাইট গার্ড।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে মেডিকেল কর্মকর্তার জায়গায় রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ২জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও)। অপরদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দীর্ঘদিন পরে থাকায় ওটির যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার পথে। হাসপাতাল কর্তপক্ষ বলছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, গাইনি ও সার্জারি কনসালট্যান্ট পেলে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা সম্ভব হবে। অপারেশন থিয়েটার চালু করলে হাসপাতালের মধ্যে সিজার বা ছোটখাটো অপারেশন করা সম্ভব হবে।

সজল মিয়া নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনের ডেলিভারির সময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে ডাক্তার ও নার্সরা সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি। পরে উপায় না দেখে কিছু মানুষের কথায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটু দূরে আদর্শ হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে সিজারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিজারের ৮ দিন পর আমার ভাগিনা মারা যায়। কারন হিসেবে পরে জানতে পেরেছি সিজারের সময় বাচ্চার মাথায় আঘাত লেগেছিল যা ওই ক্লিনিকের ডাক্তার স্বীকার করেনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকলে এবং ওটি চালু থাকলে হয়তো আজ এ দিন দেখতে হতো না।

সেবা নিতে আসা পঞ্চাশোর্ধে বৃদ্ধ নজিবর বলেন, ১ ঘন্টা ধরে সিরিয়ালে দাঁড়ে থাকবার পর ডাক্তারের দেখা পাছি। একঘরিত কি বান ওষুধ দিল বাহে, জানি না। খায়া দেখি কি হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যিনি প্রেসক্রিপশন লিখেছেন উনি ডাক্তার নন, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও)।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখন পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও বাজেট পাইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল বৃদ্ধি করা হলে আরো ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। দুই একজন মেডিকেল অফিসার ফাউন্ডেশন ট্রেনিং এ রয়েছে, একজন মাতৃকালিন ছুটিতে আছে। সবাই চলে আসলে ঈদ উল আজহার পর আরও ভাল সেবা দিতে পারবো।


ঘোড়াঘাট উপজেলা ৩১ শয্যার জনবলে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, বন্ধ হয়ে গেছে বর্ধিত ১৯ শয্যার ওয়ার্ড

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here