
মর্তুজা শোয়েব,বিশেষ প্রতিনিধি দুমকি পটুয়াখালী
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রারের অপসারনসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের আন্দোলন ভন্ডুল করার উদ্যেশ্যে রেজিস্ট্রার মোঃ কামরুল ইসলামের সমর্থনকারীরা এ হামলা চালিয়েছে। তাদের মাইক ভাংচুর করা সহ তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাঁধা দিচ্ছে। তবে যতই বাঁধা আসুক তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুসিয়ারি দেন তারা।
কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান জুয়েল ও কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান মৃধা জানান, অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আচমকাই মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের ৫-৬ জন অনুসারী। এ সময় অনেকে হামলার শিকার হন ৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলন চলারত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মোঃ জসীমউদ্দিন বাদল,মোঃ শাহীন হোসেন, মোঃ শামীম আহমেদ, মোঃ ফারুক, মোঃ নাঈম কাওসার, আসমা আক্তার সেতুসহ আরও অনেকে অতর্কিত হামলা চালান। তারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
এদিকে রেজিস্ট্রারের অনুসারিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ আন্দোলনকে ভিত্তিহীন বলে স্লোগান দিতে থাকে। রেজিস্ট্রারের অনুসারীদের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সবুজ শিকদার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ড. কামরুল ইসলাম আমাদের এ এলাকার সন্তান। তাকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে কিছু কর্মকর্তা এ অরাজকতা সৃষ্টি করছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
বিষয়টি সামাল দিতে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ হাওলাদারসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের সাথে আলোচনা করছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ৩ টি পর্যায়োন্নয়ন, সহকারী রেজিস্ট্রার পদের স্কেল ষষ্ঠ গ্রেড এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের স্কেল চতুর্থ গ্রেডে উন্নীত করা, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সরানো, অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ণে কমিটি আপডেট করা, অর্গানোগ্রাম কমিটিতে অফিসার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি রাখা ও বর্তমান রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে গত ৩০ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। কর্মকর্তা কর্মচারীদের টানা ১১ দিনের কর্মবিরতিতে স্থবির রয়েছে পবিপ্রবির প্রশাসনিক কার্যক্রম।





