এ কেমন নামাজী

0
45

আব্দুর রহীম হাজারী

ইমাম সাহেব দীর্ঘ সময় ধরে এই মসজিদে খেদমত করছেন। মুসল্লীগণের সাথে তার অনেক ভাব,সবাইকে নিজের আপনজন মনে করেন। একদিন তিনি ফজরের নামাজের পরে মুসল্লীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন। এবং তাদের বললেন, আচ্ছা আমি তো দীর্ঘদিন ধরে আপনাদের মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছি,কিন্তু জামাতের সাথে ফরজ নামাজ পড়ার পর সুন্নত ওয়াজিব নামায গুলো তো আপনারা একাই পড়তে হয়ে থাকে।

সঠিক ভাবে নামাজ পড়ার জন্য তো সূরা কেরাত সহিত শুদ্ধ করে পড়তে জানতে হবে, তাইনা! আমরা আজ থেকে প্রতিদিন কুরআনের কিছু অংশ মশক করবো ইনশাআল্লাহ। মুসল্লীরা ও একমত হলো শুরু হলো ফজরের নামাজের পরে কুরআন তেলাওয়াতের শেখা, কিছুদিন শেখার পর ইমাম সাহেব মুসল্লীদের থেকে আবার শুনতে চাচ্ছেন। একদিন সূরা ফাতিহা শুনানি শুরু হলো একে একে সূরা ফাতিহা শোনাচ্ছেন, হঠাৎ একজন খান সাহেব এর পালা আসলে তিনি কিছুই পড়তে পারলো না। সূরা ফাতিহা ও তিনি পারেন না তারপর তাদের দুজনের কথোপকথন শুরু হয়ে গেলো।

ইমাম সাহেব: কি খান সাহেব সূরা ফাতিহা পড়তে পারেন না?
খান সাহেব: না হুজুর আমি তো আলহামদুলিল্লাহ সূরাটাও পারি না।
ইমাম সাহেব: তাহলে জামাতের পরে সুন্নত নামাযগুলো কিভাবে পড়েন?
কোন কোন সময় তো আবার দুনিয়ার কাজের চাপে জামাতে শরীকও হতে পারেন না, তখন কিভাবে একা নামাজ পড়েন?
খান সাহেব: হুজুর আমার জীবনে অনেক ভুল হয়ে গেছে, আমি কিছুই পারি না হুজুর!
ইমাম সাহেব: নামাজ কিভাবে পড়েন?
খান সাহেব: আপনি যখন জামাতে নামাজ পড়ান,তাঁর উপর আন্দাজ করে রুকু সইজ্জা করে নামাজ পড়ে নেয়।

ইমাম সাহেব: রুকু সইজ্জা নয়! রুকু সেজদা হবে। তাহলে আপনি কি এগুলো শিখতে চেষ্টা করেন না?
খান সাহেব: আমি শিখতে চাই, কিন্তু সময় পাই না।
ইমাম সাহেব: সময় তো আর পাবেন না, দুনিয়ায় ঝামেলা থাকবেই, এর ফাঁকে ফাঁকেই শিখতে হবে।
খান সাহেব: হুজুর সামনে আমার জমির ফসল উঠবে, ছেলেটাও প্রবাস থেকে দেশে আসবে।
জমির ফসল ঘরে তোলার পরে এবং ছেলে দেশে আসলে তাকে একটি ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করাতে হবে ইনশাআল্লাহ।

তারপর সুযোগ করে আমি নামাজের নিয়ম কানুন ও সূরাহ কেরাত সহিহ শুদ্ধ করে শেখার জন্য ৪০ দিনের সফরে চলে যাব ইনশাআল্লাহ।

ইমাম সাহেব: আল্লাহ আপনাকে কবুল করুক, সহীহ শুদ্ধ করে সবকিছু শেখার তৌফিক দান করুক – আমীন।
এই কথোপকথনের পরে খান সাহেব বাড়িতে চলে গেলেন, ইমাম সাহেব তার নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।
কিছুদিন পরেই হঠাৎ করে খান সাহেব অসুস্থ হয়ে গেছে, নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে, কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পরে নিরুপায় হয়ে ডাক্তার তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসতে বলে, হাসপাতাল ফেরত হয়ে কয়েকদিন পরে তিনি এই দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

হলো না তার ফসল তোলা,হলো না তাঁর ছেলেকে বিয়ে করানো, হলো না তাঁর নামাজ ও কুরআন শেখা। হে আমার ভাই ও বোনেরা! আজ তুমি মনে করছে অনেক সময় আছে? হে আমার ভাই ও বোনেরা! আজ তুমি মনে করছো দুনিয়ার আরাম আয়েশ করে নেই, পরে দ্বীনের কাজ করতে পারবে? হে আমার ভাই ও বোনেরা! আজ মনে করছো আমি যদি দ্বীনের কাজ করতে চলে আমার অমুক কাজ হবে না? হে আমার ভাই ও বোনেরা! জানেন কী এই কাজ করার সময় হবে কি হবে না?
নাকি এর আগেই আপনাকে এই দুনিয়া থেকে চলে যেতে হবে? আর কতকাল উদাসীনতা করবে ফিরে এসো ইসলামের পথে।

দুনিয়ায় যতদিন থাকবে, একেরপর এক ব্যস্থতা থাকবেই, একের পর এক ঝামেলা লেগেই থাকবে।
এর ফাঁকে ফাঁকেই আপনাকে দ্বীন ইসলামের কাজ করে যেতে হবে ভাই! না হয় এই ঝামেলার মধ্যেই হঠাৎ একদিন বিদায় ঘন্টা বেজে যাবে। তখন আখেরাতের কাজ করার সময় হবে না আর! শুধুই আফসোস করতে হবে।


এ কেমন নামাজী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here