
কলমে – উজাইর হোসেন মিঠু
নির্মায়িক অদিতির বুকে প্রবীণ -প্রবীণা কাঁন্দে
নির্ঘুম নিশিতে!
সতত মনে করিয়া বর্ণাঢ্যময় জীবনের-ই গল্প
ব্যক্ত করে অশ্রুসিক্ত দু’আঁখিতে।
ধরাধামে সব-ই ছিল
এখন কিছু নাই,
প্রবীণ হয়ে ওরা এখন
বৃদ্ধাশ্রমে তাই!
যে বাবা-মায় সন্তানের তরে
জীবন দেয় ক্ষয়ে,
ঋদ্ধির খেলায়,পড়ন্ত বেলায় বৃদ্ধাশ্রম
নিকেতনে দুঃখের সিন্ধুতে যায় বয়ে।
নবীনের শেকড়, প্রবীণ -প্রবীণার পথোচলা,এই বৃত্তের মাঝেই স্থবির ;
ঐ কান্নাজরিত নির্বাক নয়নে
স্বজন প্রতীক্ষায় অধীর!
সতত পথোপানে চেয়ে দিন,মাস,বছর যায় বয়ে এই বৃদ্ধাশ্রমের নীড়ে।
সেই যে গেল খোকা
আর আসেনি কভু ফিরে!
ওরা অসহায়, নিরুপায়
বৃদ্ধাশ্রমের কোনায়,
যামিনীর আঁধারে গুমরিয়ে কাঁদে
নিঃসঙ্গ একাকীত্বের যাতনায়।
যে মা জননী তোমায়
করিয়াছিল গর্ভধারণ,
অশ্রুনদীতে সাঁতার কেটে
করেছে কত না রাত্রি জাগরণ।
তব কান্নার সুর শুনতে পেলে
ওমনি স্তন্য দিতো তোমায় মুখে….
আজ সেই মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে
পাষণ্ড মন কেমনে রয় ভুলে।
বৃদ্ধাশ্রমে চৌদেয়ালের মাঝে
ধুঁকে ধুঁকে মরে বিলাপে ;
তাদের কান্নায় যেন
খোদার আরশ ওঠে কেঁপে।
আজ মানবতার অপমৃত্যু
ঐ ভোগ বিলাসিতার-ই মাঝে,
প্রবীণ – প্রবীণার বসতি আজ উঁচু তলার সাহেব দ্বারা ঐ বৃদ্ধাশ্রমের পরিবেশে।
অবহেলায় অনাদরে
বিষাদে কাটে দিন….
ঘুণে ধরা সমাজেতে ভিত্তিটা নড়বড়ে
সাঙ্গ হয় না দুর্দিন।
ছোট্ট খোকা যখন মস্তবড়
তখন বাবা-মা হয়-রে বোঝা,
ভার্যাকে নিয়ে থাকে কত না সুখে
নিজের রক্ত নিজেকে দেয় ধোকা।
তখন বাঁচার সাধ ঐ প্রাণে জাগে না আর ঐনা দুঃখী বাবা -মার….
নয়ন জলে নোনা ঝরনা বহে
খোদার কাছে তাদের প্রার্থনা শুধুই ওপারে যাবার।
যন্ত্রণাময় পৃথ্বী থেকে,
যেতে চাই আপন নীড়ে ;
যেখানে রবে না হায়! সেই চিত্তদাহ বৃদ্ধাশ্রম, রবে না জীবন ব্যথা স্মৃতি ঘিরে।





