
মোঃ শামীম খন্দকার,কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনটি পদে কর্মচারী নিয়োগে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৪২ লাখ টাকার বেশি লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া বেশি টাকা ঘুষ দেওয়া তিনজনকে পদের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। কম ঘুষ দেওয়া কয়েক জনকে কিছু টাকা ফেরত দেওয়ারও তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ওই তিন পদে চাকরি প্রত্যাশী ও তাদের স্বজনরা সংবাদ কর্মীদের জানান। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, আয়া, ও নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ছয়জনের কাছ থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, মোঃ অনির উদ্দিন প্রামাণিক ও প্রধান শিক্ষক, মোনায়েম খান। মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ লেনদেন করেছেন। প্রতিটি পদের জন্য ছয়জনের কাছে ২ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ঘুষ নিয়েছেন তারা। বেশি টাকা ঘুষ দেওয়ায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মালেকের ছেলে সৈকত আহমেদ, আয়া পদে মান্নান বিশ্বাসের মেয়ে ও শামীমের স্ত্রী আইরিন আক্তার ও নিরাপত্তাকর্মী পদে আব্দুল মান্নানের ছেলে রাকিব হোসেনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কম টাকা ঘুষ দেওয়ায় কয়েকজনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে তিনটি পদে কর্মচারী নিয়োগের জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক, মোঃ মোনায়েম খান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন সভাপতি, মোঃ অনির উদ্দিন প্রামাণিক ও প্রধান শিক্ষকের কাছে অগ্রিম ঘুষের টাকা দিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু প্রভাবশালী নেতা, সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা ও নিয়োগ বোর্ডের টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করা হয় এবং ফের ১১ মে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এক’ই গ্রামের মোঃ রাজা নামের একজন যুবক বলেন, আমি কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে চাকরির জন্য ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে সভাপতি, মোঃ অনির উদ্দিন প্রামাণিক, সম্পর্কে তিনি আমার চাচা হয়। ওনাকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে প্রদান করি। প্রায় ছয় মাস আগে। এখন সভাপতি আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি অবষ্ঠিত টাকা দেওয়াই ব্যর্থতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তার চাচা মোঃ অনির উদ্দিন প্রামাণিক তাঁর ৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে আয়া পদপ্রত্যাশী আইরিন আক্তার বলেন, সভাপতি তাঁর চাচা হন। চাকরি হলে সভাপতিকে মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য খরচ দেওয়ার চুক্তি করেছেন তিনি। আর নিরাপত্তাকর্মী পদে রাকিবের বাবা মা বলেন, সভাপতি তাঁর চাচাতো ভাই হন। ছেলের চাকরির জন্য কথা বলছেন, তাঁর ছেলের চাকরির জন্য কথা চলছে। কিন্তু কাউকে তিনি টাকা দেননি। তবে অফিস খরচের বিনিময়ে চাকরি হলে তিনি তাঁর ছেলেকে সেখানে চাকরি করাবেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোনায়েম খান বলেন, তিনটি পদের জন্য তিনি দুই দফা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে ১৭ জন আবেদন করেছেন। কিন্তু তিনি কোনো টাকা-পয়সা লেনদেন করেননি। কাউকে চূড়ান্তও করেননি। তবে তিনি মানুষের মুখে সভাপতির বিরুদ্ধে টাকাপয়সা লেনদেন ও প্রার্থী চূড়ান্ত করার খবর শুনেছেন।
সভাপতি অনির উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, চাকরির জন্য কিছু টাকাপয়সা লাগে। তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছিলেন, আবার ফেরতও দিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় এক প্রভাবশালীর নাম ভাঙিয়ে সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কেটে পড়েছেন। সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের দাবি, তিনি কিছুই জানেন না। কোনো লেনদেন হলে তা সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকই করেছেন। সভাপতি নিজের দোষ ঢাকতে তাঁর নামে মিথ্যা বলছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী এজাজ একই গ্রামের রোজিনা খাতুন বলেন, আয়া পদে কায়সার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রার্থী চাকরির জন্য প্রায় তিন বছর ধরে সভাপতিকে এ চূড়ান্ত বা ঘুষ লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন তাঁর স্বামী ও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।





