‘গত কোরবানে এট্টু গরুর গোশত খাইছি, আর চোখি দেহিনি’

‘চেয়ারম্যানরে কইছি একটা চালের কার্ড করে দিতি। ভোটার কার্ড দিয়ে আইছি। মাঝেমধ্যি চেয়ারম্যানের কাছে যাই। কার্ড দেবে কি দেবে না কিছু কয় না। চাল আসতেছে। অন্য মানসির বস্তা বস্তা দেচ্ছে, দেখতিছি। আমারে দেয় না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন বৃদ্ধা আয়েশা।

আক্ষেপ করে বৃদ্ধা বলেন, ‘ছেলে পেটে থাকতি ওর বাপ মরিল। ভিটেমাটিটুকু ছাড়া কিছু নাই। কত্ত কষ্ট করে ছেলেমেয়ে বড় করিছি। সেই ছেলে এখন খবর নেয় না। মেয়ে বিয়ে দিছি গরিব ঘরে। ও যা পারে করে। লোকজন জিজ্ঞেস করে আমার ছেলে আছে কি না। বলি নেই, মরে গেছে। যে ছেলে খাতিলতি দেয় না, তার কথা কী বলব?’

আয়েশ খাতুন বলেন, ‘কদিন আগে ডায়রিয়া হয়ে পাঁচ-ছয় দিন হাসপাতালে ছিলাম। কেউ খোঁজ নিনি। এখন ভালোমন্দ খাতি রুহুটা ছটপট করে। গতকাল দুপুরে ও রাতে কিছু খাইনি। ঘরে চাল নেই। মাঝেমধ্যে আল্লাহরে কই, আমারে নিয়ে যাও। আল্লাহ শোনে না।’

বৃদ্ধার প্রতিবেশী স্থানীয় কদমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এনামুল হক কিরণ বলেন, ‘বৃদ্ধা আয়েশা খুব অসহায়। একমাত্র ছেলে মাকে দেখে না। মাঝে আমাকে বলেছিল চালের কার্ডের কথা। আমি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাইছি। পরে কী করেছে আর জানায়নি।’

উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ বলেন, ‘নতুন করে চালের কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। দেখি বৃদ্ধার জন্য কিছু করা যায়নি।’


‘গত কোরবানে এট্টু গরুর গোশত খাইছি, আর চোখি দেহিনি’

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles