পজিটিভ চিন্তা, নেগেটিভ চিন্তা

গোবিন্দ মোদক

আমরা মানুষ যেনো আমাদের মস্তিষ্কের কাছে বিক্রিত।আমরা চলি আমাদের মস্তিষ্কের ইশারায়। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চিন্তা, ধ্যান ধারণা প্রায় অনেকটা আলাদা হয়ে থাকে। আমাদের মস্তিষ্ক যেনো তারই কথা বলে। তার মাঝে উৎপন্ন চিন্তা নিয়েই আমরা কাজ করি। একটু চিন্তা করে দেখবেন মস্তিষ্কের দুটো দিক আছে একটা পজিটিভ মাইন্ডের অন্যটি নেগেটিভ মাইন্ডের।হাস্যকর বা বাস্তব চিন্তা থেকে বলায় যায় ঐদুটো দিক একটি শয়তান দ্বারা পরিচালিত অন্যটি ঈশ্বর দ্বারা।আমাদের যখন ভালো কোনো কাজ করার চিন্তাভাবনা মস্তিষ্ক উৎপন্ন করে তখন তা অবশ্যই পজিটিভ মাইন্ডের হয় যা আমাদের সৃষ্টিকর্তা কতৃক আরোপিত। আমাদের ভালো কাজগুলো করার জন্য উৎসাহিত করা সে কাজ গুলোর জন্য ভালো চিন্তাভাবনা তৈরি করা তা আমাদের মস্তিষ্কেই হয় আর সৃষ্টিকর্তা সর্বদা ভালো কাজের পথেই চলার নির্দেশ দেন। তাই বলায় যায় সেই সময় আমাদের মস্তিষ্কে সৃষ্টিকর্তা বাস করেন।

অন্যদিকে সবসময় কিন্তু আমরা ভালো কাজটিই করি না কেউ কেউ ঐ যে নেগেটিভ মাইন্ড যা শয়তানের ইশারায় চলে তা করতেই লিপ্ত হই মানে খারাপ কাজগুলোর জন্য নানান চিন্তাভাবনা আসে মস্তিষ্কে। তখন আমাদের মস্তিষ্কে জুড়ে চলে শয়তানের রাজত্ব, মনে হয় যা করা হচ্ছে তাই আমার জন্য ভালো এটা করলেই মজা আসবে পরে যা হওয়ার দেখা যাবে।

লেখক ছাত্র তাই ছাত্রের মস্তিষ্কের দুটি দিক তুলে ধরি। দিনশেষে নানান কাজ করে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে পড়তে বসা ছাত্রের নৈতিক দায়িত্ব। কাজ তো একটি পড়া বোঝা এবং তা পরিক্ষায় সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা। পড়তে বসলাম বললাম আজ এগুলো পড়ে শেষ করবো পরিক্ষা প্রায় চলেই এসেছে মিনিট কয়েক পড়া শেষে মাথায় চিন্তা আসলো ফোনটা একটু নিয়ে দেখি ফেসবুকে কে কি দিয়েছে শেষ পড়ার কথা গেলাম ভুলে গ্রুপ মেসেজের আনন্দে। এই যে এখানে আমাদের মস্তিষ্কে প্রথম যে চিন্তা এসেছিল পড়া শেষ করতে হবে তা আমাদের ঈশ্বর মানে পজিটিভ মাইন্ডের ইশারা আর দ্বিতীয় যে চিন্তা ফেসবুকে যাই একটু তা আমাদের নেগেটিভ মাইন্ড যা শয়তান চালিয়ে থাকে।

আমাদের চারপাশে পজিটিভ চিন্তা বা বিষয়ের থেকে নেগেটিভ বিষয়গুলো অনেক বেশী প্রকট। যে কারণে, প্রতিটি স্তরে আমরা এই ধরণের চিন্তা দ্বারা তাড়িত হই যা আমাদেরকে একটি স্বাভাবিক পজিটিভ জীবন পার করা থেকে দূরে ঠেলে দেয়। যার কারণে আমরা আমাদের জীবনের দাঁড়িপাল্লায় পজিটিভ বিষয়ের থেকে নেগেটিভ বিষয়গুলোর ভারে নুয়ে পরি। যে কারণে, নেগেটিভ চিন্তা, মানুষ এবং ঘটনা থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত।

আমাদের মস্তিষ্ক এভাবেই সবসময়ই পরিচালিত হবে দুটো দিক থাকবেই। দুটো দিক যদি না থাকে তাহলে ভালো আর খারাপ দুটো শব্দ আর থাকবে না। কিন্তু আমাদের ভালো চিন্তাভাবনা গুলো সবার আগে নিতে হবে যা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তুলবে। নেগেটিভ মাইন্ডের চিন্তা গুলো এড়িয়ে গিয়ে পজিটিভ মাইন্ডের চিন্তা গুলো কাজে লাগাতে হবে। কারণ আমাদের পজিটিভ মাইন্ডে ঈশ্বর থাকেন সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা এ চিন্তা গুলোর সম্মান দিবো এবং তা যথাযথ প্রয়োগ করবো। তাহলেই একটি সুন্দর ভালো মনের ব্যক্তি আমরা আমাদের পরিবার ও সমাজকে উপহার দিতে পারবো।

লেখক
গোবিন্দ মোদক
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ।


পজিটিভ চিন্তা, নেগেটিভ চিন্তা

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles