
মোঃ মনিরুল ইসলাম খান,নিজস্ব প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
গৌরীপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনটি ১৯৭০ সালে নির্মিতি হয়।
নেত্রকোনা জেলার মানুষ ও গৌরীপুর উপজেলার মানুষের যাতায়তের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম হলো রেলওয়ে যাতায়ত ব্যবস্হা। বর্তমানে ১০ জোড়া ট্রেন গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন হয়ে পূর্বধলার জারিয়া ও নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ এ চলাচল করে। দিন দিন এ অঞ্চলের মানুষের তাই যাতায়তের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ট্রেইন যাতায়ত ব্যবস্হা। সারা দেশে সকল প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নয়ন হলেও শুধু উন্নয়নের ছুঁয়া লাগে নি গৌরীপুরের রেলপথ ও সড়ক পথ বিভাগে।
গৌরীপুর হতে শ্যামগঞ্জের সড়ক বিভাগের রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত ভাঙ্গা। সড়কের মাঝ খানে বড় বড় গর্ত, যেখানে প্রায় সময়ই গাড়ি উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে গৌরীপুরের ট্রেইন যাতায়ত ব্যবস্হাও ভাল না। গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে মোট পাঁচটি রেল লাইন রয়েছে,তার মধ্যে ২টি অচল এবং ৩টি সচল। যেখানে প্রতিদিন ১০ জোড়া ট্রেইন যাতায়ত করে। ফলে দেখা যায় ২টি লাইন নষ্ট থাকার দরুন অনেক ট্রেইন স্টেশনের বাহিরে অপেক্ষা করে। ফলে যাত্রিগণ অনেক ভোগান্তির শিকার হয়। ফুটওয়ার ব্রীজটিও ভাঙ্গা।
অন্যদিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় স্টেশনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। জনগণের অসচেতনতা, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এমনটা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ভৌগলিক দিক দিয়ে এই স্টেশন আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ব্রিটিশ আমলেই গৌরীপুর রেলস্টেশন স্থাপিত হয়। ট্রেন যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে জারিয়া-ঝানজাইল-পূর্বধলা, মোহনগঞ্জ-নেত্রকোনা-শ্যামগঞ্জ-গৌরিপুর-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেন সহ ঢাকা গামী ট্রেইন দশ বার চলাচল করে। অসংখ্য মানুষ তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকাল সন্ধ্যা হাটাহাটি করে। কিন্তু বর্তমানে এই স্টেশনে কেউ আসলে তাকে ময়লার দুর্গন্ধে নাক ঢেকে আসতে হয় আর জনগণ যখন তখন, যেখানে সেখানে মুত্রত্যাগ করে।
সরেজমিন দেখা যায়, ময়লা স্তুপ করে রাখায় স্টেশনটির সামনে এবং পিছনের জায়গা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্টেশনের লাগোয়া পরিত্যক্ত বিল্ডিং আর রেললাইনের ধার দিয়ে মানুষ অনবরত মুত্রত্যাগ করতে আসছে। দখল-দূষণ ছাড়াও নানা সঙ্কটে ধুঁকছে এই রেলপথ। স্টেশন বাজারের কয়েক জন ব্যবসায়ী বলেন, স্টেশন বাজারে প্রতিদিন প্রায় শত শত মানুষ এই বাজারে যাতায়াত করে। কিন্তু এই বাজারের বাথরুম নেই, আর স্টেশনে এনজিও দাতা সংস্থার গণশৌচাগার ছিল ১ টি তাও ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। এজন্যই লোক লজ্জার মাথা খেয়ে লোকজন স্টেশনে খোলা জায়গায় প্রসাব পায়খানা করতে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর রেলস্টেশন বুকিং মাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন, স্টেশনে ময়লা না ফেলতে এবং ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন রেললাইনের ইলেকট্রিক অনেক বাতি নষ্ট যার দরুন প্রায় প্রায় চুরি ছিনতাইয়ের মত দু্র্ঘটনা ঘটে।
গৌরীপুর স্টেশনের পার্শবর্তী স্হানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক আবদুর রউফ দুদু, সাবেক দুই বারের কাউন্সিলর আবদুল কাদির ও স্হানীয় জনতা অভিযোগ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন হলেও গৌরীপুরের পূর্বের এম পি মন্ত্রীগণ কখনো গৌরীপুর উন্নয়ন চায় নি। তাহারা গৌরীপুরের উন্নয়নের পরিবর্তে নিজেদের উন্নয়ন করেছে।
গৌরীপুরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নিলুফার আনজুম পপির কাছে গৌরীপুরের রেলস্টেশন সহ গৌরীপুরের উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গৌরীপুর উপজেলাকে অচিরেই একটি স্মার্ট উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলা হবে। পাশাপাশি সকল রাস্তাঘাট সহ জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অচিরেই দ্রুত পদক্ষেপ নিব ইনশাআল্লাহ।”





