
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন কবির হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য, বদলী বানিজ্য ও বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে টাকা ছাড়া কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না সিভিল সার্জন। এমনকি স্বাস্থ্য সহকারী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি মঞ্জুরের জন্যও টাকা দিতে হয়। তাকে টাকা না দিলে ছুঁটি মেলেনা। এছাড়াও ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকের নিবন্ধন নিতে হলে দিতে হয় ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা। এভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে এই সরকারি কর্মকর্তা অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিজের গ্রামের বাড়ি গলাচিপায় গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি। পটুয়াখালী জেলা শহরে কিনেছেন কোটি টাকার জমি। ঢাকায় রয়েছে ফ্ল্যাটও।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, চলতি বছরের ১২ মার্চ একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিভিল সার্জন। এতে ১২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এরমধ্যে স্বাস্থ্য সহকারী পদে ১০৮ জন, কম্পিউটার অপারেটর ২ জন, অফিস সহকারী ২ জন, পরিসংখ্যানবিদ ২ জন, স্টোরকিপার ৬ জন ও ড্রাইভার ৩ জন।
চাকরিতে আবেদনকারী কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, এসব পদে চাকরি জন্য ১৩ থেকে ২০ লাখ টাকা করে ঘুষ নির্ধারণ করে সিভিল সার্জন। সেই হিসেবে এ নিয়োগে বানিজ্যের মাধ্যমে ১৬ থেকে ২০ কোটি বানিজ্যের হাতিয়ে নেয়ার ছক কষেন তিনি। এবং যাদের সাথে কন্ট্রাস্ট ফাইনাল হয়েছে তাদের কাছ থেকে ইতমধ্যে অর্ধেক পরিমাণ টাকা সিভিল সার্জন নিয়েও গেছে ।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অফিস সহকারী পদে আবেদনকারী এক নারীর সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ১৫ লাখ টাকা দিলে তাকে চাকরি দিবেন সিভিল সার্জন। এ ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা ও ভাইবায় পাশ করানোর সকল দায়িত্বও নিবেন সিভিল সার্জন। সিভিল সার্জনের এমন প্রস্তাবে রাজিও হন ওই নারী। তবে তার সাথে সিভিল সার্জনের কন্ট্রাস্ট হয় চাকরি হওয়ার পরে টাকা দেয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পরে চুক্তির শর্ত বদলায় সিভিল সার্জন। চাকরি প্রার্থী নারীকে ডেকে নিয়ে বলেন ১৫ লাখ নয়, ১৩ লাখ টাকা দিলেই চাকরি হবে। তবে টাকা দিতে হবে এখনই। তবে চাকরি হওয়ার আগে টাকা দিতে রাজি হননি ওই নারী।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পটুয়াখালী সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন স্বাস্থ্য সহকারী জানান, তিনি বদলী হওয়ার জন্য আবেদন দিয়েছেন অনেক আগে। কিন্তু টাকা না দেয়ায় তার বদলী ফাইলে স্বাক্ষর করছেন না সিভিল সার্জন। যার কারণে দীর্ঘদিন ঘুরে বদলী হতে পারছেন না। ভুক্তভোগী ওই স্বাস্থ্য সহকারী আরো জানান, সিভিল সার্জন অভিস থেকে প্রতিমাসে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের জন্য একটা অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা সিভিল সার্জন অফিস থেকে দেয়া হয় না। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিরত অসুস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা না দিয়ে তিনি সামান্য কিছু ঔষধ কিনে দেন। এভাবে সকল সেক্টর থেকে কমিশন বানিজ্য করেন সিভিল সার্জন কবির হোসেন।
মহিপুর সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর একজন পরিচালক জানান, গত বছরে এ প্রতিষ্ঠানটি নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। অনলাইনে সকল কাজ সম্পন্ন করার পরে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া হয়। পরে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ভিজট করতে যেন লোক পাঠানো হয় সেজন্য সিভিল সার্জনের রুমে গেলে তিনি বেলালের সাথে দেখা করতে বলে। তখন বেলাল সিভিল সার্জনের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবী করেন। আমি তাকে ২০ হাজার টাকা দেই। পরে ভিজিট শেষে ফাইনাল স্বাক্ষর আনতে গেলে তখন আবার ৫০ হাজার টাকা চায়। তখন ১০ হাজার টাকা কমদিয়ে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি।
এব্যাপারে জানতে চাইলে পটুখালীর সিভিল সার্জন কবির হোসেন বলেন, যারা অভিযোগ করেছে, তাদের কাছ থেকে জানেন। আমার কিছু বলার নেই। আমি কোন অনিয়ম করি নাই।













