৭ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী! পরিবারের অভিযোগ হয়রানী করতেই মামলা

0
42

মো. তৌফিকুর ইসলাম,বিষেশ প্রতিনিধি আমতলী বরগুনা

বরগুনার আমতলীতে ধর্ষন চেষ্টা মামলায় প্রথম শ্রেনী পড়ুয়া ছাত্রকে প্রধান আসামী করে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহনের জন্য আদেশ প্রদান করেন।

উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের চাউলা গ্রামে সাড়ে ৭ বছরের প্রথম শ্রেনী পড়ুয়া এক শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

মামলায় শিশু নাঈমকে চরিত্রহীন ও ১৫ বছরের কিশোর দেখিয়ে মামলার আবেদন করেন।

স্থানীয় চাউলা গ্রামের নুরুজ্জামান হাওলাদার এর ছেলে মো. নাঈম এর বিরুদ্ধে। মোঃ নাঈম (০৭) চাউলা আবু ইউসুফ নূরাণী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। প্রথম শ্রেণীর ছাত্র শিশু মো. নাঈম (০৭) এর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে বিস্মিত এলাকাবাসী।

জানাযায়, চাউলা গ্রামের একই এলাকা এবং একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দুজনেই। নাঈম ইসলাম প্রথম শ্রেনী ও তাজমিন আক্তার ওই মাদ্রাসায় নার্সরিতে অধ্যায়নরত আছেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন বিকেলে খেলাধুলা করার জন্য বাড়ি থেকে নাঈম ইসলাম বের হলে বাড়ির পাশেই খেলার জন্য যান। খেলাধুলার এক পর্যায়ে তাজমিন আক্তার নাঈমের জুতা পুকুরে নিক্ষেপ করে ফেলে দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে তাজমিনের দিকে তেড়ে গেলে তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। দৌড়তে গিয়ে ইটের ভাঙা টুকরোর সাথে পা ফসকে পরে গিয়ে গাছের শিকড়ের সাথে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আঘাতপ্রাপ্তের এক পর্যায়ে বিষয়টি তাজমিন তার মাকে জানালে তাজমিন ও নাঈমের মায়ের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি, ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাতাহাতির এক পর্যায়ে নাঈমের মাকে শিশু নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে চলে যান। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, আমরা শুনেছি কিন্তু ধর্ষন চেষ্টা করার মতো এমন বিষয় নাও হতে পারে। দুজনেই বাচ্চা শিশু।

নাঈম ইসলামের বাবা নুরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, আমি বাড়ি ছিলাম না। এসে শুনতে পাই বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করতে গিয়ে পা পিছলে পরে গিয়ে আঘাত পেয়েছে তা নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়েছে। আমি বলেছিলাম চিকিৎসা করানোর জন্য। পরে শুনি আমার পরিবারের সবাইকে ধর্ষন চেষ্টার মামলার আসামি করা হয়েছে।

নাবালক শিশুসহ আমাদের হয়রানি করতে তারা পরিকল্পিত ভাবে আমাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

এ ঘটনার তদন্ত যেন সঠিক হয় প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ।

নাঈমের মা রুমা বেগম বলেন, দৌড়াতে গিয়ে পরে ব্যাথা পেয়েছে তা নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে জানতে পারি মামলা করছে আমাদের সকলে আসামি করে।

আহত শিক্ষার্থী তাজমিনের বাবা নাজমুল শিকদার মুঠোফোনে মামলার কথা স্বীকার করে বলেন মেয়েকে নিয়ে পটুয়াখালী হাসপাতালে আছি অন্য সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছি এই বলে কল কেটে দেন।

চাউলা আবু ইউসুফ নূরাণী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, দুজনেই আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছেলে নাঈম প্রথম শ্রেনীর নিয়মিত ছাত্র ও মেয়ে নার্সরির নিয়মিত ছাত্রী। ধর্ষন চেষ্টার বিষয় জানত চাইলে তিনি জানান ওটা তাদের পারিবারিক বিষয় – এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, কোর্টের নির্দেশে মামলা নিয়েছি সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


৭ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী! পরিবারের অভিযোগ হয়রানী করতেই মামলা

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here