
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে ১২ বছরের এক শিশুর নিখোঁজের পর তার পরিবারের কাছে এসেছে রহস্যজনক ফোন। অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে রাখার দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। এমনকি ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনানো এবং তাকে মারধর করে বাথরুমে আটকে রাখার কথাও বলা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিখোঁজ শিশুটির নাম মো. হাবিবুল্লাহ নাঈম। গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে খিলক্ষেতের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িটোলা স্কুল রোড এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন ছয় বছর বয়সী ছোট ভাই আদিলের সঙ্গে নাঈমের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে তার মা তাকে বকাঝকা করলে অভিমান করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সে। এরপর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এ সময় নাঈমের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে শিশুটিকে উদ্ধারে খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার মা মোছা. শরীফা খাতুন। পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিবি পুলিশের কাছেও লিখিতভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পরদিন শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাদের কাছে ফোন আসে। ফোনে দাবি করা হয়, নাঈম ওই ব্যক্তিদের হেফাজতে রয়েছে। একপর্যায়ে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনানো হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের অভিযোগ, ফোনে নাঈমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং একটি বাথরুমে আটকে রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়। পরে ‘হাজী বাড়ি ক্যাম্প’ এলাকার কথা উল্লেখ করে ফোনটি কেটে দেওয়া হয়। এরপর ওই নম্বরে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নাঈমের চাচা গোলাম হুসাইন জানান, শিশুটিকে খুঁজে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসার পর পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নাঈমের বাবা মো. বাবুল ইসলাম ও মা মোছা. শরীফা খাতুন। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হাজনা নাটোর গ্রামে। বর্তমানে তারা খিলক্ষেতের কুড়িটোলা স্কুল রোড এলাকায় বসবাস করছেন।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন জানান, শিশুটির নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।
তবে অজ্ঞাত নম্বর থেকে আসা ফোনের বিষয়টি এবং শিশুটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে- এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।













