হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে সাবেক শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

0
11

ভোলা জেলা প্রতিনিধি

দ্বীপ জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য কলেজটির সুনামকে আরও বিস্তৃত করেছে।

কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্যাডারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে, ব্যাংকিং খাতে এবং দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষকতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কর্মরত রয়েছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার প্রসার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির অবদান রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় একাধিকবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সেরা কলেজগুলোর তালিকায় স্থান করে নেয়। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর প্রতিষ্ঠানটি সরকারি উন্নয়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বঞ্চিত ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪ সালের পর প্রতিষ্ঠানটি আবারও তার পুরনো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করে।

সম্প্রতি সরকার কলেজটি জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের প্রত্যাশা, জাতীয়করণ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া আজম বলেন, “হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতীয়করণের উদ্যোগ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক সংবাদ। আমরা সরকারের এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। জাতীয়করণ বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী ও শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজের প্রভাষক এম রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় আমাদের কাছে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের প্রজন্মের স্বপ্ন ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। এই কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আজ বিসিএস প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা, ব্যাংকিং, স্কুল-কলেজসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয়করণের উদ্যোগ আমাদের সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠানটি আবারও যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছে, এজন্য আমরা সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, জাতীয়করণ সম্পন্ন হলে হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না; দক্ষ শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সমন্বয় প্রয়োজন। হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় জাতীয়করণ হলে এসব ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।

তাদের দাবি, জাতীয়করণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য, সুনাম ও শিক্ষার ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করা হোক।


হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে সাবেক শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here