
আঃ রহীম হাজারী,ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলা প্রতিনিধি:
@ হাফেজ সাহাদুল্লাহ রহঃ @
নাম ও পরিচয়: নাম সাহাদুল্লাহ, উপনাম হুসাইন,
পিতার নাম রুকন উদ্দিন হাজারী, মাতার নাম হালিমা বেগম, তার বংশের ৮ম পুরুষের নাম হাজারী, সেদিকে নিসবত করে তাকে হাজারী বলা হয়।তার ১২তম পুরুষ মিয়াজি মাহদী খোরাসানী,তার ১৭তম পুরুষ আলী রেয নিশাপুরী ও তার ২১তম পুরুষ সায়্যেদ আহমদ বাকের সিরাজী।
জন্ম: ১৯৯৬ সালের ৫ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উরশীউড়া গ্ৰামের সম্ভ্রান্ত হাজারী বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশব: শৈশবে তার আচার আচরণ ছিল অত্যন্ত মার্জিত, তার সময়ানুবর্তিতার মাঝে ভবিষ্যতে বড় কিছু হওয়ার পূর্বাভাস ছিল।
শিক্ষা জীবন: নিজ গ্ৰামের উরশীউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়।
১২ বছর বয়সে প্রাইমারি শিক্ষা সমাপ্ত করে নিজ চাচা হযরত মাওলানা ইমাম হোসাইন হাজারী (রহঃ) এর তত্বাবধানে আল মাদ্রাসাতুল ইসলামিয়া রামরাইল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা জীবন শুরু হয়।
তারপর তিঁনি বাকাইল আদর্শ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও জামিয়া তাজুল উলুম তাহাফ্ফূজে খতমে নবুয়ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হিফজুল কোরআন সমাপ্ত করেন।
তারপর জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কিতাব বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। উচ্চতর শিক্ষার জন্য
তিনি ঢাকায় চলে যান। প্রথমে মারকাজুল হুদা মাদ্রাসা কেরানীগঞ্জ ও পরে মাদ্রাসাতুল হুসাইনিয়া আজরাবাদে থেকে লেখাপড়া করেন। মৃত্যুর কালে তিনি শরহে ভেকায়াতে পড়তেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী রয়ে গেল…… ।
মৃত্যু: অধ্যয়নরত অবস্থায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়িতে এসে ঈদুল ফিতরের পরের দিন দুর্বৃত্তদের হামলায় বড় ধরনের আঘাত প্রাপ্ত হলে তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা রেফার করেন।
২০১৭ সালের ২৯ জুন বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় ঢাকা এলিফ্যান্ট রোড জেনারেল মেডিকেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
জানাযা ও দাফন: ১লা জুলাই শনিবার সকাল নয়টায় উরশীউড়া ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়,
জানাযায় ইমামতি করেন তার চাচাতো ভাই রামরাইল ঈদগাহ ময়দানের ইমাম হাফেজ হেদায়েত উল্লাহ ইমাম,
পরে তাকে বাড়ির পাশে বাগে হাজারী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্মৃতি: শহীদ হাফেজ সাহাদুল্লাহর স্বরণে তার বড়ভাই ইতালি প্রবাসী মোঃ সফিউল্লাহ হাজারী গ্ৰামের সবাইকে নিয়ে উরশীউড়া বাজারে একটি পাঠাগার স্থাপন করেন। যার নামকরণ করা হয় হাফেজ সাহাদুল্লাহ রহঃ স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার।





