
সম্রাট টিপু সুলতান,বিশেষ প্রতিনিধি ঝিকরগাছা যশোর:
দেশব্যাপী বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরোধান সহ কৃষক উৎপাদিত সকল পণ্যের খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলার কৃষক সমাজ। ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষকদের অভিযোগ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কৃষকেরা সেচ মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষি পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষক সমাজ।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন নাভারণের কলাগাছি মাঠে বিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্পের মালিক ওই গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে জামাল উদ্দীনের (৫৬) সাথে কথা হয়। তার স্কীমের আওতায় ২৫ বিঘা জমি রয়েছে। তিনি বিঘাপ্রতি ৪ হাজার টাকা নেন বলে জানিয়েছেন। পাম্প মালিক আরও জানান – আমরা স্কীমের মালিক এবং কৃষকেরা বসে পানির দাম নির্ধারণ করি। সরকারের নির্ধারিত মূল্য তালিকা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই।
অথচ ওই মেশিনের আওতায় থাকা কৃষক নাম অপ্রকাশের শর্তে জানান- বিঘা প্রতি গত বছর ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, এ বছর ৬ হাজার টাকা দিতে হবে।
একই গ্রামের ওসমানের স্ত্রী কৃষাণী কাঞ্চন আরা (৩৫) বলেন – বিদ্যুতের দাম বেড়েছে তাই সেচ পানির দাম তো বাড়বেই।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় এ বছর বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ ১১ ইউনিয়নে বোরোধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি। সেখানে আশা করা হচ্ছে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন হবে। এ মৌসুমে পানি সেচের আওতায় প্রায় ২৫০ হেক্টর ভুট্টা এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি সব্জি চাষের আওতায় আনা হয়েছে। গত ধান উৎপাদিত হয়েছিলো ৭৮ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদিত ধানের পরিমাণ হবে প্রায় ৮২ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন।
বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ উপজেলা গভীর নলকূপ রয়েছে প্রায় ৩২৫ টা, অগভীর নলকূপ রয়েছে ৭ হাজার ২২০ টা এবং পাওয়ার পাম্প ৬৫ টা রয়েছে।
দিনের অন্যান্য সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকলেও রাত ১১ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত কোন লোডশেডিং থাকে না বলে জানিয়েছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি এবং কৃষি অফিস।
পায়রাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান – বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়েছে কিন্তু সেই তুলনায় পণ্যের দাম বাড়ছে না। এছাড়াও দিনে লোডশেডিয়ের কারণে জমিতে সেচ দেয়ার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর ডিজিএম তালুকদার মোঃ মেজবাহ উদ্দীন জানান – রাত ১১ টা থেকে সকাল ৭ টা কৃষকদের সেচ কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা রয়েছে , এসময় কোন লোডশেডিং থাকে না। দিনের বেলায় সামান্য লোডশেডিং থাকলেও অচিরেই লোডশেডিং মুক্ত হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হাসান পলাশ জানান – সরকার নির্ধারিত সেচ মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করলে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।













