
পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি
পিরোজপুরে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের গত আট মাসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩হাজার৪০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ২১৪ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৮৯ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে২৭ জন, নাজিরপুরে ১৪, নেছারাবাদে ১৩, কাউখালীতে ৬, ভান্ডারিয়ায় ৯ এবং মঠবাড়িয়ায় ৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইন্দুরকানিতে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১০ মাসে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে—১৪০৭ জন। এছাড়া নাজিরপুরে ৩১৪, নেছারাবাদে ৫৮৫, কাউখালীতে ২২৬, ভান্ডারিয়ায় ৬৪৮এবং মঠবাড়িয়ায় ৫০ , জিয়ানগর ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার আরিফ হাসান জানান, এ বছর ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমছে না। একজন রোগীর চিকিৎসায় গড়ে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগছে। এর মধ্যেই প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার( আর এম ও) ডাঃ নিজাম উদ্দিন বলেন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় ৩৫০ জন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিয়মিত মশারি ব্যবহার, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আমাদেরও মাঝে মাঝে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে শুধু চিকিৎসা নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও জরুরি। সম্প্রতি প্রজননস্থল শনাক্তে আইইডিসিআরের একটি দল পিরোজপুরে কাজ করেছে। এ সময় সুপারি ও নারিকেল গাছের গোড়া এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।













