পটুয়াখালীর পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ এর খোলা চিঠি

0
257

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

পটুয়াখালী পৌর র্নিবাচনের ভোট গ্রহণ আগামী ৯ মার্চ (রোজ শনিবার) ২০২৪ইং। পৌর র্নিবাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে জল্পনা- কল্পনার শেষ নেই। কে হচ্ছে আগামী দিনের পৌরপিতা? কিন্তু বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদের বিপদ যেনো পিছু ছাড়ছেনা। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে প্রার্থীতা বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট অভিযোগ খারিজ করে দেয় এবং প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে।

পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাইকোর্টে রীট করলে, মহামান্য হাইকোর্ট রীট আমলে নানিয়ে খারিজ করে দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র মহিউদ্দিন পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে খোলা চিঠি পোস্ট করেন, যা দৈনিক একুশে নিউজে হুবহু তুলে ধরা হলো

আমার প্রাণপ্রিয় পৌরবাসী,

আসসালামু আলাইকুম। আজ একটি বিশেষ কারণে আপনাদের কিছু কথা জানানো জরুরী। আমার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থি পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এমনসব বেসামাল আচারণ শুরু করেছে সে বিষয়ে পৌরবাসীর কিছুটা পরিস্কার ধারণা থাকা উচিত। তারা ৮ বছর ক্ষমতায় থেকে এ শহরের জন্য কি কি করেছে পৌরবাসী তা জানে। বিপরীতে আমার ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে আড়াই বছরই চলে গেছে করোনাকালীন মহামারীতে। তারপরও বাকী স্বল্প সময়ের মধ্যেই পশ্চাৎপদ, খানা-খন্দ আর ধুলোয় ধুসর শহরটিকে শতবর্ষী পরিকল্পনার আলোকে, আপনাদের সকলকে সাথে নিয়ে নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রানন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই উন্নয়ন তাদের ভালো লাগে না। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের গায়ে জ্বালা পোড়া ততই বাড়ছে। তারা বেছে নিয়েছে ষড়যন্ত্রের চোরা পথ।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ১৩ তারিখ মনোনয়ন জমা হয়েছে। ১৫ তারিখ দুপুরের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে আমার মনোনয়ন অফিসিয়াললি বৈধ ঘোষণা করলো। প্রচার প্রচারণার পরিকল্পনা নিচ্ছি। এমন সময় শুনলাম ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় তারা নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেছে, ‘আমি নাকি ঋণ খেলাপি’! জেলা নির্বাচন অফিস তা গ্রহণ করেনি। কেননা আমার সিআইবি ক্লিয়ার, আয় ব্যয়ের তথ্যসহ আমি বিধিমত সঠিকভাবেই হলফনামা দিয়েছি। কোথাও ন্যূনতম কোন ব্যত্যয় নেই। খোঁজ নিয়ে জানলাম আমার বড় ভাইয়ের ১টি লোনের গ্রান্টার ছিলাম আমি। সেই লোনের ১ টি কিস্তি বাঁকি ছিল। সেই তথ্য তারা ব্যাংক থেকে জোগাড় করে প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপককে বাধ্য করেছে নির্বাচন অফিসে অভিযোগ জানাতে। যে কোন নির্বাচনে যত প্রার্থী থাকে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা যাচাই বাছাইয়ের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সবার তথ্য সংগ্রহ করে। সাধরণত কী ঘটে- ব্যাংক যদি কারো লোনের টাকা যথাসময়ে সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় ব্যাংক প্রথম ঋণ গৃহীতাকে চাপ দিবে। সেখানে ব্যর্থ হলে গ্রান্টারকে জনাবে, এরপর গ্রান্টারকে চাপ দিবে, সেখানেও ব্যর্থ হলে আইনী প্রক্রিয়ায় যাবে। তা না গ্রান্টার হিসেবে আমাকে কোন কিছু না জানিয়েই সরাসরি চিঠি দিয়েছে নির্বাচন অফিসে। কতটা ক্ষমতার অপব্যবহার তারা করেছে চিন্তা করুন।

ব্যাংক, নির্বাচন অফিস বা প্রশাসন কেউ আমাকে কিছু জানায় নি তবুও আমি অভিযোগ শোনা মাত্রই ১৬ তারিখেই ঋণের কিস্তি পরিশোধের ব্যবস্থা করি। কিন্তু তারা ক্ষান্ত হয়নি, এরপর তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আমার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য অভিযোগ করে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়। এরপর তারা বহু চেষ্টা গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রীট করে।

আজ মহামাণ্য হাইকোর্ট রীট আমলেই নেয় নি, সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। অ্যাপিলেট ডিভিশন এখানেও কিছু করতে না পেরে তারা আগামী দিন হাইকোর্টের ফুল বেঞ্চে শুনানি করতেছে

তারা জানে নির্বাচনে তাদের পরিণতি কী হবে। তাই যত প্রকার অপকৌশল আছে সবই তারা প্রয়োগ করেই যাবে। আপনারা জানেন ইতোমধ্যেই পটুয়াখালীর সকল স্তরের সাংবাদিকদের এক অদৃশ্য শক্তি দিয়ে কতটা ন্যাক্কারজনকভাবে তাদের সাফাই গাইতে বাধ্য করছে। যারা তাদের কথা শুনছে না তাদের চাকুরী কেড়ে নিচ্ছে। শুধু মেইন স্ট্রিম মিডিয়া নয়, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, স্থানীয় গণমাধ্যম, ব্লগার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা এক্টিভ, প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে শাসানো হচ্ছে। ব্যরিষ্টার সুমন, তৌহিদ আফ্রিদি, ওমন সানির মত সেলিব্রেটি যারা পটুয়াখালীর সন্তান না কিন্তু পটুয়াখালী শহরের সৌন্দর্য্য দেখে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে তাদের সবার নামে তারা বিষোদগার করছে। এমনকি এই শহরের যে কোন লোকেশনে আপনি যদি ১টি পারিবকারিক ছবিও এখন ফেইসবুকে দেন, দেখবেন অজস্র ফেইক আইডি নিয়ে কীভাবে আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রতিদিন শত শত ফেইক আইডি, ভূয়া নিউজ পোর্টাল জন্ম নিচ্ছে পটুয়াখালীতে, তা দিয়ে হাজার হাজার ডলার খরচ করে গুজব বুস্টিং করছে প্রতি নিয়ত।

নির্বাচনী প্রচারণার আর মাত্র ৩দিন বাকী আছে। অথচ তাদের এই অসাধু প্রক্রিয়ার জবাব দিতে আমাকে ঢাকার হাইকোর্টের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। আমার এখন পৌরসভার প্রান্তিক এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখের কথা শোনার কথা, কীভাবে সবাইকে নিয়ে আরেকটু ভালো থাকা যায়, কোথায় কী কী সমস্যা আছে, তা আপনাদের কাছ থেকে শুনে, আপনাদের সাথে নিয়েই কীভাবে সমস্যাসমূহের সমাধান করবো সেই পরিকল্পনা করার কথা। ইচ্ছা ছিল একটি সুন্দর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবো। এই শহর নিয়ে আমার কি কি স্বপ্ন আছে, পরিকল্পনা আছে সেগুলো শেয়ার করবো। আমি বিশ্বাস করি ভোট আপনার অধিকার; আর উন্নয়ন আমার অঙ্গীকার। কিন্তু সেই অঙ্গীকার ঘোষণা করতেও দিচ্ছে না তারা। একটার পর ১টা মিথ্যা আইনী অভিযোগ ও সহস্র ষড়যন্ত্রের জাল বুনে তারা হয়রাণি করেই যাচ্ছে।

আথচ বিশ্বাস করুন চাইলে অন্তত: ১০০ মামলা ওদের বিরুদ্ধে করতে পারি। কত নিরীহ মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে, ধর্ষণ করে দেশ ছাড়া করেছে, কত মানুষের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, কীভাবে মাদক সিন্ডিকেট চালায়, চাঁদাবাজি আর কী কী অবৈধ ব্যবসা আছে মানুষ কিন্তু সব জানে। প্রথম আলোর মত পত্রিকা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার ভেজাল কারবার দিয়ে লীড নিউজ করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি কতবার অনুসন্ধানী সাংবাদিতার মাধ্যমে তাদের মুখোশ উম্মোচিত করেছে, আপনারা সবই জানেন। আমাদের মেডিকেল কলেজটা পর্যন্ত আপনারা শহর থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছেন। এত পাপ পটুয়াখালীর মাটি আর সইবে না। কোন কিছু ভুলি নাই। জীবনে কোনদিন অন্যায় করি নি, কারো সাথে বেয়াদবী করি নি, করতে চাইও না। নির্বাচনী প্রচারণার মাত্র ৩ দিন বাকী, প্রচার প্রচারণার মধ্যে থেকে জনগণের মুখোমুখি হোন। চোরা পথে ঘোরাঘুরি করলে সে পথেই হারায়ে যাবেন, মনে রাখবেন।

যাই হোক প্রিয় পৌরবাসী আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত আপনাদের মাঝে যথাযথ সময় দিতে না পারায়। ইনশাল্লাহ্ সকল অপকর্মের জবাব হবে আগামী ৯ তারিখ। এবারও জামানত নিয়ে ঘরে ফিরতে দিবো না আমরা। সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।

আপনাদের মহিউদ্দিন।


পটুয়াখালীর পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ এর খোলা চিঠি

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here