
ছৈয়দুল আমিন সাঈদ,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার সদরের পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় একটি মাদক পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। তাদের প্রতিদিন ইয়াবা ও নানা ধরনের মাদক বিক্রি করে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে এই মাদক পরিবার। তাদের বেপরোয়া এবং অবৈধ টাকার গায়ের জোরে স্থানীয় ও পাশ্ববর্তী লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এসবকে ঘিরেই চলছে নানা ধরনের অপরাধ। বলেছিলাম দক্ষিণ সাহিত্যেকা পল্লী ফরেস্ট অফিস এলাকায় এমন একটি মাদক সম্পৃক্ত পরিবারের কথা। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মানুষ নানা ধরনের হয়রানির শীকার হয়েছে। এমনকি মামলা হামলা থেকে শুরু করে নানা সময় নানাভাবে নাজেহাল হয়েছে স্থানীয় অনেক মান্যগণ ব্যক্তিবর্গ।
গঠনার সুত্র ধরে জানতে পারি যে, ১৮ আগস্ট রবিবার সকাল ১০ টায় মাদক সম্রাট পরিবারের ইয়াবা মামলার আসামি আমেনা, বাপ্পি, নয়ন মনি, রীনা আক্তার ও বহু ইয়াবা মামলার আসামি বদিউল আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় একই এলাকার পাশ্ববর্তী লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে রেহেনা বেগম, তার মেয়ে স্কুল পড়ুয়া উম্মে হাবিবা নুরী, শাহনাজ করিম প্রিয়াকে বেদম মারধর ও কামড় দিয়ে জখম করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে মারামারি চললে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে শারীরিকভাবে ভিতরে বেশী আঘাত হলেও উপরে তেমন কোন ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়নি রেহেনার শরীরে। তবে ঘটনায় হামলার শীকার রেহেনার দুই মেয়ের শারীরিক অবস্থা খুবই আশংকাজনক। ইতিমধ্যে তারা দুজনেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে রেহেনা বেগম ও মেয়ে উম্মে হাবিবা নুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অসহায় পরিবার আমরা স্থানীয়ভাবে সম্মানের সাথে বসবাস করি। আমার একটি মেয়ে কক্সবাজার গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। আমরা দিনে এনে দিনে খাই কিন্তু আমাদে সাথে একটি মাদক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে উঠেপড়ে লেগে আছে। তাদের মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মানুষকে সঠিক তথ্য দেয়ার কারণে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা ইতিমধ্যে নিরুপায় হয়ে দিনযাপন করছি। তাদের অত্যচারে এবং হামলার ভয়ে স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবারের উপর হামলা চালায়। এবিষয়ে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। কিন্তু তারা আমাদের বিরুদ্ধে নিরহভাবে মামলা দেয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। তারা ইতিমধ্যে মাদকের অবৈধ টাকা পয়সা দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে উঠেপড়ে লেগে আছে।
এবিষয়ে ভোক্তভোগী পরিবার বাদী হয়ে ১৮ আগস্ট (রবিবার) কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাঁচ জনকে অভিযোগ করে একটি পরিকল্পিত হামলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি ইতিমধ্যে আমলে নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুজ্জামান।





