
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বাংলা বিভাগের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথন, সাইবার বুলিং এবং ছবি বিকৃতির মাধ্যমে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ নামে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ঐ নারী শিক্ষার্থী ৩০শে অগাস্ট প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী নারীকে হেনস্থা করা অভিযুক্তদের কথোপকথনের একাধিক স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়েছে।
বাংলা বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শাখা ছাত্রদলের সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনের অনুসারী হিসেবেই পরিচিত। উল্লেখ্য, পূর্বে মোস্তাফিজুর রহমান মারুফের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকি ও জুনিয়রদের অবগত না করে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়ার মত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে আলোরন উঠেছিল।
অভিযোগপত্র অনুসারে, ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ সহ একই বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িত ছিল তাদের মধ্যে লাবণ্য তিশা, তানভীর হোসেন, জোবাইদা বিনতে হ্যামায়ুন অন্যতম।
ইতোমধ্যে, ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। স্ক্রিনশটগুলো থেকে দেখা যায়, একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে কথোপকথনের একপর্যায়ে লাবণ্য তিশা তার এক ছেলে বন্ধুকে বলেন, “তুই যা ভালো ঘুম দিয়ে আসিস প্রটেকশন নিয়ে যাস ।” এর জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ গ্রুপে একটি কনডমের ছবি শেয়ার করেন। একই কথোপকথনে ভুক্তভোগীকে নিয়ে আরও বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়।
এদিকে, ভুক্তভোগী প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ভুক্তভোগীকে নিয়ে আপত্তিকর কথোপকথন চলতে থাকে। ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটে ‘৫ আসামী’ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপ অভিযুক্তদের প্রক্টর অফিসে অভিযোগের প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান মারুফের উদ্দেশ্য, “ফোন ধরছোস প্রক্টর অফিসের ?” বলা হলে তার জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ প্রক্টরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “প্রক্টর স্যার বলছে আমাকে কনডম ইউজ করে দেখাবে সে নিজে।”
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী বলেন, অভিযুক্তদের দ্বারা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন কথোপকথনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং নিজের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগে উল্লিখিত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বী তৌহিদ গণমাধ্যমকে জানান, প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিভাগে সমাধান না হলে ‘র্যাগিং ও বুলিং বিরোধী সেল’-এ বিষয়টি তোলা হবে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে ভুক্তভোগীকে নিয়ে সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে ‘চাকসু ফ্রি লিগ্যাল এইড সেল’-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি ও নারী আইনজীবীর সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন ও প্রধান অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মারুফের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।











