চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তি, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

0
17

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। গ্যাসের অভাবে অনেক বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। একই কারণে নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও গাড়ির সারি এক থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় অনেক সিএনজি অটোরিকশা সড়কে নামতে পারছে না।

এদিকে গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিদিনই যাত্রীদের সাথে চালক ও হেলপারদের বাগ্বিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। ফলে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক, পরিবহন ও বাণিজ্যিকসহ নগর জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে।

মঙ্গলবার নগরের গনি বেকারীর কিউসি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নেয়ার জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি ফিলিং স্টেশন ছাড়িয়ে রহমতগঞ্জ পর্যন্ত চলে গেছে।

গ্যাস নিতে আসা সিএনজি চালক ফরহাদ বলেন, সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত সামনে এগিয়েছেন সামান্যই। তার আগে আরো ৭০-৮০টি গাড়ি রয়েছে। প্রতিদিন গ্যাস নিতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে দিনের অর্ধেক সময়ই গ্যাসের লাইনে কাটছে এবং গাড়ি চালিয়ে আয়-রোজগার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বহদ্দার হাট এলাকার বাসিন্দা হাফেজ মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, গ্যাস সংকটের অজুহাতে গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া নেয়া হচ্ছে। তার দাবি, চকবাজার থেকে বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত সিএনজি গ্যাসে চালিত হিউম্যান হলারের স্বাভাবিক সময়ে ১২ টাকা ভাড়া হলেও বর্তমানে নেয়া হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। একইভাবে মুরাদপুর থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত ৫ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। গ্যাসচালিত টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহনেও একইভাবে বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর সিএনজি অটোরিকশা-অটোটেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এখনো গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। দিনের বেলায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকে। রাতেও সব স্টেশন চালু থাকে না। একটি গাড়িকে গ্যাস নিতে চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে কিছুটা বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাড়তি ভাড়া নেয়া বন্ধ হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

নগরের খুলশী ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. হাসান চৌধুরী বলেন, রাত ১২টা থেকে ১টার দিকে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস আসে এবং সকাল ৮টার দিকে চলে যায়। গত এক মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের জন্য ৫১টি ফিলিং স্টেশন থাকলেও সবগুলোতে একই সময়ে গ্যাস পাওয়া যায় না। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মু. রইস উদ্দিন আহমেদ বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সোমবার সরবরাহ করা হয়েছে ২৭১ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতির কারণেই আবাসিক, বাণিজ্যিক ও পরিবহন—সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন জানান, সোমবার কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে রান্না থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তবে কবে নাগাদ চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন সংশ্লিষ্টরা।


চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তি, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here