
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের গভীর সমুদ্র থেকে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি ইঞ্জিন বিকল কাঠের বোটসহ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মিলিয়ে মোট ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৬৫ জন বিদেশগমনেচ্ছুক এবং ১১ জন মানবপাচারকারী চক্রের দালাল।
নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে সেন্টমার্টিন সিগন্যাল টাওয়ার থেকে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে একটি ইঞ্জিন বিকল কাঠের বোট শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদ’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
উদ্ধারকৃত ৬৫ জন বিদেশগমনেচ্ছুর মধ্যে ৬১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন। এদের মধ্যে ৪৯ জন বাংলাদেশি এবং ১৬ জন রোহিঙ্গা (১২ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী)।
অন্যদিকে, পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত দালাল হিসেবে শনাক্ত ১১ জনের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি এবং ৮ জন রোহিঙ্গা বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযান শেষে গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে উদ্ধারকৃতদের নিয়ে নৌবাহিনীর জাহাজটি সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়। এরপর ২ অক্টোবর সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনীর একটি দল তাদের নিয়ে রওনা হয়। মানবপাচারে ব্যবহৃত ‘এফবি আল্লাহর দান-৮৬’ নামের ফিশিং বোটটি বর্তমানে নৌবাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ১১ দালালকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মানবপাচার চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া বোটটির মালিক হিসেবে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২-এর মোহাম্মদ ইউনূসের নাম উঠে এসেছে। মানবপাচারের সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।













